উত্তরবঙ্গের আকাশপথে যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন কোচবিহার বিমানবন্দর কি তবে বন্ধ হতে চলেছে? আগামী ৩১ জানুয়ারি বর্তমান বিমান সংস্থার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর সেই মেয়াদের পরেই তারা ছোট বিমান চালাতে আর আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে শনিবার কোচবিহার বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকেই পরিষেবা সচল রাখা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন তিনি।
প্রশাসন ও বিমানবন্দর সূত্রে খবর, বর্তমানে কোচবিহার থেকে কলকাতা রুটে ৯ আসনের ছোট বিমান চলাচল করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা আর এই ছোট বিমান চালাতে চাইছে না। তারা চাইছে বড় বিমান নামাতে, যা এই ছোট রানওয়েতে সম্ভব নয়। ফলে আগামী ৩১ জানুয়ারি চুক্তির মেয়াদ ফুরোলেই আপাতত কোচবিহারের আকাশ থেকে ডানা গুটিয়ে নিচ্ছে উড়ান সংস্থাটি।
কোচবিহার বিমানবন্দরের মূল সমস্যা হল এর ছোট রানওয়ে। বর্তমানে রানওয়েটি মাত্র ১,০৬৯ মিটার লম্বা। বড় বিমান নামাতে গেলে রানওয়ের দৈর্ঘ্য আরও অন্তত ৬৫০ মিটার বাড়ানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই লাগোয়া মরা তোর্সা নদীর ওপর বক্স কালভার্ট বসিয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজও বর্তমানে বিশ বাঁও জলে।
এদিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন:
কেন্দ্রীয় সরকার এই বিমানবন্দর সচল রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী, কিন্তু রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি।
জমি বা পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই রানওয়ে সম্প্রসারণ থমকে রয়েছে।
শমীকবাবু আরও জানান, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদে সরব হয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
ভোটের মুখে কোচবিহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ৩১ জানুয়ারির পর আদৌ কি কোনও বিকল্প ব্যবস্থা হবে, নাকি ফের কয়েক বছরের জন্য তালা ঝুলবে এই বিমানবন্দরে—তা নিয়েই এখন চিন্তিত কোচবিহারের মানুষ।
Leave a comment