কলকাতা: তিলোত্তমা-কাণ্ডের ক্ষত শুকোনোর আগেই ফের শিরোনামে আরজি কর হাসপাতাল। এবার হাসপাতালের লিফটে আটকে পড়ে এক ব্যক্তির রহস্যমৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং চত্বর। মৃত ব্যক্তির নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০), তিনি দমদমের বাসিন্দা। শুক্রবার ভোরের এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চূড়ান্ত গাফিলতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
[TECHTARANGA-POST:7446]
পরিবার সূত্রে খবর, ৪ বছরের শিশুপুত্রের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য আরজি করে এসেছিলেন অরূপবাবু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। শুক্রবার ভোরে ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় যাওয়ার জন্য তাঁরা লিফটে ওঠেন। অভিযোগ, লিফটি পাঁচতলায় না গিয়ে হঠাৎ দ্রুতবেগে নীচে নামতে শুরু করে এবং গ্রাউন্ড ফ্লোর ছাড়িয়ে বেসমেন্টে গিয়ে আটকে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে শিশু ও স্ত্রীকে নিয়ে লিফটের ভেতরেই বন্দি হয়ে পড়েন অরূপবাবু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় লিফটে কোনো অপারেটর ছিলেন না। ভেতরে আটকে থাকা দম্পতি চিৎকার করলেও প্রায় এক ঘণ্টা কোনো সাহায্য মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় আটকে থাকার পর যখন উদ্ধারকারীরা দরজা খোলেন, তখন অরূপবাবুকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, লিফটের ভেতরে আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:7442]
এই ঘটনার খবর ছড়াতেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টালা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যেই ওই লিফটের দায়িত্বে থাকা লিফটম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালের লিফটে অপারেটর না থাকা এবং উদ্ধারকাজে দেরির অভিযোগে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
Leave a comment