০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দিল্লি আইন-কানুন ‘এটা তো দেশবিরোধী আইন!’ মোদী সরকারের নতুন বিলে রণংদেহি রাহুল
আইন-কানুনদিল্লিদিল্লিভারতবর্ষ

‘এটা তো দেশবিরোধী আইন!’ মোদী সরকারের নতুন বিলে রণংদেহি রাহুল

Share
Share

নয়াদিল্লি: “মহিলাদের ক্ষমতায়ন নয়, আসল লক্ষ্য ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়া!” – শুক্রবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই মোদী সরকারকে সরাসরি ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী! মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন বিলকে (আসন পুনর্বিন্যাস) হাতিয়ার করে সরকারের বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রাহুলের এই ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল অ্যাক্ট’ মন্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি সরকার মহিলাদের সংরক্ষণের আড়ালে আসলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার খেলা খেলছে। তাঁর দাবি, এই বিলের মাধ্যমে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বা ‘ইলেক্টোরাল ম্যাপ’ এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে একটি বিশেষ শক্তি আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পারে। 

[TECHTARANGA-POST:8100]

রাহুলের কথায়, ২০২৩ সালে পাস হওয়া মূল আইনটি ছিল আসল। বর্তমান প্রস্তাবটি কেবল ক্ষমতা দখলের কৌশল। ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসকে সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করে মহিলাদের অধিকারকে আরও কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ ভারত এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। 

এদিন রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোট মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধী নয়। কিন্তু, যে কৌশলে এই বিল আনা হয়েছে তা তারা মানবে না। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রস্তাবটি কোনও মহিলা ক্ষমতায়ন বিল নয়। এটি নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এই আইন সরাসরি দেশবিরোধী (Anti-National Act)!”

[TECHTARANGA-POST:8095]

বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। বিরোধীদের দাবি, সরকার যদি সত্যিই মহিলাদের সম্মান দিতে চায়, তবে কেন ডিলিমিটেশনের বাহানায় একে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে?

রাহুলের যুক্তি, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি বর্তমান অবস্থায় শুরু করলে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হবে। বিশেষ করে যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে (যেমন দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি), তারা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে। পুরো বিরোধী শিবির এখন একজোট হয়ে এই বিল আটকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:8094]

ভোটের মুখে রাহুলের এই ‘দেশবিরোধী’ তকমা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, সংসদের এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *