০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা আর জি কর ফাইলস খুলতেই অ্যাকশন অন! ‘থ্রেট কালচারের হোতা’ অভীকের বিরুদ্ধে জোড়া তদন্তের নির্দেশ
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

আর জি কর ফাইলস খুলতেই অ্যাকশন অন! ‘থ্রেট কালচারের হোতা’ অভীকের বিরুদ্ধে জোড়া তদন্তের নির্দেশ

Share
আর জি কর ফাইলস খুলতেই অ্যাকশন অন! ‘থ্রেট কালচারের হোতা’ অভীকের বিরুদ্ধে জোড়া তদন্তের নির্দেশ
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়া ‘অভয়া’কে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনার পর যেসমস্ত প্রভাবশালীদের নাম সামনে এসেছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসক অভীক দের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত সাঁড়াশি চাপ তৈরি হল। 

[TECHTARANGA-POST:9421]

সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘দাদাগিরি’ ও ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর অভিযোগে ধৃত ও বরখাস্ত (সাসপেন্ডেড) এই পিজি ট্রেনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এবার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য ভবন। স্বয়ং রাজ্যপাল আর এন রবির হস্তক্ষেপে ‘আর জি কর ফাইলস’ খুলতেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, অভীক কীভাবে বেআইনি প্রভাব খাটিয়ে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে এসএসকেএম হাসপাতালে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9422]

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও অভীক দে পরবর্তীকালে এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের প্রথম বর্ষের পিজিটি হন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থ্রেট কালচার, মর্গে দুর্নীতি, চিকিৎসকদের বদলি চক্রে বেআইনি হস্তক্ষেপ, দু’বছর ধরে নিয়মিত ক্লাস না করা, ডিউটিতে হাজিরা না দেওয়া ও রোগী না দেখাসহ মোট ৩২ দফা গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বাঁধে অভয়া কাণ্ডের দিন। আর জি করের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও, ক্রাইম সিন অর্থাৎ সেমিনার রুমে ‘লাল জামা’ পরে অভীকের ঘোরাঘুরি করার ছবি সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন পড়েছিল।

[TECHTARANGA-POST:9398]

২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অভীককে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। তাঁর এসএসকেএম-এর ওটি, ইমার্জেন্সি, ওপিডি এমনকী হস্টেলে ঢোকার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে, এই ঘটনায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলও প্রথমে কড়া পদক্ষেপ করলেও মাত্র ৪ মাসের মাথায়, অর্থাৎ ওই বছরের ডিসেম্বরেই সকলের অলক্ষ্যে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, অভীককে কি তবে আড়াল করতে ‘প্রতীকী সাসপেনশন’ দেওয়া হয়েছিল? কিন্তু, এবছর রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বদল হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘দুর্নীতিমুক্ত’ ব্যবস্থার কড়া বার্তার পর এই প্রভাবশালী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রকৃত তদন্তের চাকা ঘুরল।

অভীক দের বিরুদ্ধে এই কোমর বেঁধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে একযোগে স্বাগত জানিয়েছে সমস্ত চিকিৎসক সংগঠন। আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ চিকিৎসক অনিকেত মাহাত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এই অভীক দে এই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে থ্রেট কালচারের আসল জনক। এদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।” অন্যদিকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সমস্ত রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে সমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ করতে হবে। তদন্তের এই নির্দেশ আসতেই বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তিলোত্তমার বিচার প্রক্রিয়ায় যাঁরা বাধার সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে দিয়েছেন দুর্নীতিগ্রস্তদের যথাস্থানে পাঠানো হবে এবং সেই প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়ে গেল।”

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *