০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা ময়লা ফেলার গাড়ি বেচে কোটি টাকার দুর্নীতি! গণবিক্ষোভের মুখেই রহস্যমৃত্যু তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের, খুন নাকি আত্মহত্যা?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

ময়লা ফেলার গাড়ি বেচে কোটি টাকার দুর্নীতি! গণবিক্ষোভের মুখেই রহস্যমৃত্যু তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের, খুন নাকি আত্মহত্যা?

Share
ময়লা ফেলার গাড়ি বেচে কোটি টাকার দুর্নীতি! গণবিক্ষোভের মুখেই রহস্যমৃত্যু তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের, খুন নাকি আত্মহত্যা?
গণবিক্ষোভের মুখেই রহস্যমৃত্যু তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের। ছবি-সংগৃহীত
Share

বাদুড়িয়া: খোদ নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হলো তৃণমূলের দাপুটে পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ! মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরে যাঁর বিরুদ্ধে দফায় দফায় গণবিক্ষোভ চলছিল, তাঁর এই আকস্মিক পরিণতি ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ঋণের বিপুল বোঝা এবং দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যাওয়ার জেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শাসক দলের এই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ক্ষোভের বারুদে অগ্নিসংযোগ ঘটে গত ৩১ মে, যখন তাঁর বিরুদ্ধে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর জন্য আসা অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার গাড়ি গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এই খবর চাউর হতেই ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা ওইদিনই প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এলাকা ছাড়েন জাহিদুল। এমনকি পুলিশ তাঁর খোঁজে বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলেও সেই সময় তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপন করে থাকার পর, মঙ্গলবার সকালে আচমকাই তাঁর ঝুলন্ত দেহ মেলার পর ক্ষোভের জায়গা নিয়েছে চরম উত্তেজনা।

এলাকার বাসিন্দারা এবং স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, শুধু পঞ্চায়তের দুর্নীতিই নয়, জাহিদুল হক বৈদ্যর ব্যক্তিগত জীবনও জড়িয়ে পড়েছিল এক গভীর অন্ধকূপে। তাঁর ঘাড়ে নাকি ছিল কোটি কোটি টাকার ঋণের বোঝা। এলাকার বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন তিনি, যা কোনোভাবেই পরিশোধ করতে পারছিলেন না। গত কয়েকদিন ধরে পাওনাদারদের লাগাতার চাপ এবং অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের তাড়া— সব মিলিয়ে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এই তৃণমূল নেতা। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এটি ঋণের দায়ে ও অপমানে আত্মহত্যা, নাকি দুর্নীতির জল অনেক দূর গড়ানোর আশঙ্কায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

[TECHTARANGA-POST:9679]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *