০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা এক্কেবারে ছারখার তৃণমূল, গঠিত হলো ‘নব তৃণমূল ব্লক’! সংখ্যার বিচারে ব্রাত্য মমতা-অভিষেক, কে পেলেন কোন পদ?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

এক্কেবারে ছারখার তৃণমূল, গঠিত হলো ‘নব তৃণমূল ব্লক’! সংখ্যার বিচারে ব্রাত্য মমতা-অভিষেক, কে পেলেন কোন পদ?

Share
এক্কেবারে ছারখার তৃণমূল, গঠিত হলো ‘নব তৃণমূল ব্লক’! সংখ্যার বিচারে ব্রাত্য মমতা-অভিষেক, কে পেলেন কোন পদ?
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দু’মাসও কাটল না, তার আগেই এক্কেবারে আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি দু’টুকরো হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাটের কড়া অনুশাসন আর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভেঙে চুরমার করে বুধবার সরকারিভাবে আত্মপ্রকাশ করল ‘নব তৃণমূল ব্লক’। আর এই ঐতিহাসিক ভাঙনের জেরে আদি তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি কার্যত উবে গেছে। 

[TECHTARANGA-POST:9711]

বুধবার দুপুরেই খোদ বিধানসভার অন্দরে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি নিয়ে রণংদেহী মেজাজে প্রবেশ করেন সদ্য বহিষ্কৃত হেভিওয়েট নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যার চরম শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এই নতুন ব্লকের ‘বিরোধী দলনেতা’ নির্বাচিত হয়েছেন স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি উপ-দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শিউলি সাহা এবং জাভেদ খানকে। এই নতুন সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন আর এক তরুণ তুর্কি বিধায়ক সন্দীপন সাহাও, যা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি।

[TECHTARANGA-POST:9700]

তৃণমূলের অন্দরে বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই যে চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছিল, তা আজ এক লহমায় মহাসংগ্রামে রূপ নিল। এর আগে দল থেকে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করে বিদ্রোহ দমনের যে মরিয়া চেষ্টা করেছিল আদি তৃণমূল নেতৃত্ব, তা সম্পূর্ণ বুমেরাং হয়ে গেল। বুধবার স্পিকার বা অধ্যক্ষের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সর্বসম্মত স্বাক্ষর করা যে চিঠি জমা পড়েছে, তা সংখ্যার বিচারে মমতা-অভিষেকের শিবিরকে এক লহমায় কোণঠাসা করে দিয়েছে। বিধানসভার বর্তমান পাটিগণিত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা ‘আদি তৃণমূল’ বিধায়কের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২-এ, যেখানে ঋতব্রতর ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এর পক্ষে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আইনি ও সাংবিধানিক নিয়মে এই নতুন ব্লকই এখন বিধানসভায় প্রকৃত দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

[TECHTARANGA-POST:9680]

দল ভাঙার এই নজিরবিহীন আবহে সবথেকে বড় টুইস্ট হলো, এই ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক কিন্তু নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করেননি। কৌশলগত চাল হিসেবে তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজেদের সর্বময় নেত্রী বলে মান্যতা দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আসলে প্রকৃত এবং আসল ‘তৃণমূল ব্লক’, যা সংখ্যার বিচারে প্রমাণিত। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুখে নেত্রীর নাম নিলেও কার্যত অভিষেক ও মমতার কড়া নিয়ন্ত্রণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন এই বিধায়করা। এদিকে এই বিদ্রোহের পেছনে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক শক্তির ‘প্ররোচনা’ ও ‘স্বার্থ’ কাজ করছে বলে দাবি করে সুর চড়িয়েছে আদি তৃণমূল শিবির।

[TECHTARANGA-POST:9676]

শাসকদলের এই আকস্মিক পতনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেলেঘাটার আদি তৃণমূল বিধায়ক। নাম না করে ঋতব্রত শিবিরের উদ্দেশ্যে তোপ দেগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কারা কী উদ্দেশ্যে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন, তা আইনি পথেই খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর ক্ষোভ, এই বিধায়করা প্রত্যেকেই ভোটের বাজারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে প্রচার করেছিলেন এবং জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আজ বিধায়ক হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থ চরিতার্থ করতে যান, তবে বাংলার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীরা মাঠে-ঘাটে তাঁদের উপযুক্ত জবাব দেবেন। 

[TECHTARANGA-POST:9710]

এই ধরনের চোরাগোপ্তা কাজ করে দল পিছন থেকে ছুরি মারা সাধারণ কর্মীরা মেনে নেবেন না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠনের পর বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াই এবার এক অভূতপূর্ব আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিল।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *