০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব পাক সেনার কব্জা থেকে মুক্ত হাসপাতাল! রাওয়ালকোটে রক্তক্ষয়ী ‘গেরিলা যুদ্ধ’, ১১ লাশের স্তূপে কাঁপছে ইসলামাবাদ
বিশ্ব

পাক সেনার কব্জা থেকে মুক্ত হাসপাতাল! রাওয়ালকোটে রক্তক্ষয়ী ‘গেরিলা যুদ্ধ’, ১১ লাশের স্তূপে কাঁপছে ইসলামাবাদ

Share
পাক সেনার কব্জা থেকে মুক্ত হাসপাতাল! রাওয়ালকোটে রক্তক্ষয়ী ‘গেরিলা যুদ্ধ’, ১১ লাশের স্তূপে কাঁপছে ইসলামাবাদ
ছবি সংগৃহীত
Share

মুজাফফরাবাদ: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ফৌজের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সর্বাত্মক ‘গেরিলা যুদ্ধে’ নেমে পড়ল সাধারণ জনতা। পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশের অকথ্য নির্যাতন আর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ এবার এক ভয়াবহ গণবিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে পাক সেনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেঁধে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছে। এই খণ্ডযুদ্ধে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে যে, ক্রুদ্ধ জনতা পাকিস্তানের সেনা হাসপাতালের দখল পর্যন্ত নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। এই নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের জেরে কাঁপতে শুরু করেছে ইসলামাবাদের মসনদ।

[TECHTARANGA-POST:9823]

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের চরম বিতর্কিত সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে। আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনে সরকার ও সেনার হার নিশ্চিত জেনেই সেখানকার অন্যতম জনপ্রিয় নাগরিক জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাক প্রশাসন। এর প্রতিবাদে এক সমাজকর্মীর পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর মঙ্গলবার রাওয়ালকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ জমায়েত করেছিলেন। অভিযোগ, আচমকাই সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে জল্লাদের মতো চড়াও হয় পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশ। ব্যস, এর পরই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জনরোষ। সাধারণ মানুষ লাঠিসোটা ও পাথর নিয়ে পালটা আক্রমণ চালায় সেনাবাহিনীর ওপর। দু’পক্ষের এই ভয়াবহ যুদ্ধের পর রণক্ষেত্র এলাকা থেকে সেনা ও পুলিশকে পিছু হটতে বাধ্য করে পুরো হাসপাতালের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্থানীয় জনতা।

[TECHTARANGA-POST:9822]

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে যে, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং কানাডার মতো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলি তড়িঘড়ি তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওই দেশগুলির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও নাগরিক যেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সীমানায় পা না রাখেন। বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের এই চরম অরাজকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9821]

এদিকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দিয়ে মঙ্গলবার থেকেই অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে শুরু হয়েছে জেএএসি-র ডাকা সর্বাত্মক বনধ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা ইতিমধ্যেই ভীম্বর থেকে একটি ঐতিহাসিক ‘লং মার্চ’ বা দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন। এই বিশাল মিছিলটি মিরপুর, কোটলি এবং পুঞ্চের ওপর দিয়ে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছে। আগামী ১০ জুন এই পদযাত্রা মুজাফফরাবাদে পৌঁছাবে এবং সেখানে বিধানসভার বাইরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে বসবেন হাজার হাজার মানুষ। এই আন্দোলন গুঁড়িয়ে দিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা জুড়ে কার্ফু জারি করে প্রায় ২০০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বুলেটের ভয় দেখিয়ে যে এই গণজোয়ার আর রোখা যাবে না, তা মঙ্গলবারের থমথমে পরিস্থিতিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *