০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home উত্তর প্রদেশ অপরাধ রামভক্তদের কোটি কোটি টাকার দান গায়েব! ট্রাস্টের জরাজীর্ণ সিস্টেমে চরম ক্ষুব্ধ মোদী
অপরাধউত্তর প্রদেশভারতবর্ষ

রামভক্তদের কোটি কোটি টাকার দান গায়েব! ট্রাস্টের জরাজীর্ণ সিস্টেমে চরম ক্ষুব্ধ মোদী

Share
রামভক্তদের কোটি কোটি টাকার দান গায়েব! ট্রাস্টের জরাজীর্ণ সিস্টেমে চরম ক্ষুব্ধ মোদী
রামমন্দিরে কোটি টাকার চুরিতে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী। ছবি-সংগৃহীত
Share

অযোধ্যা: ভক্তি আর বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু অযোধ্যার রামমন্দিরে এবার কোটি কোটি টাকার চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। খোদ রামলালার দরবারে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ সোনাদানা ও নগদ টাকা লুটের এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। যেভাবে সাধারণ রামভক্তদের কষ্টের দান এভাবে চুরি হয়ে গেল, তা নিয়ে তো বটেই, পাশাপাশি মন্দিরের বর্তমান ভেঙে পড়া পরিচালন ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্বয়ং মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার নৃপেন্দ্র মিশ্র এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এই গোটা ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভক্তদের টাকার সুরক্ষার পাশাপাশি মন্দিরের এই ‘ভেঙে পড়া জরাজীর্ণ সিস্টেম’-কে কীভাবে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক সিস্টেমে রূপান্তর করা যায়, সেটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামমন্দিরের এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে সুর চড়িয়ে চুরির অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছিল মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। কিন্তু জল বেশিদূর গড়ানোর আগেই ট্রাস্টের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তে একের পর এক সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলতেই পিছু হঠতে বাধ্য হয় তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তড়িঘড়ি ৩ সদস্যের একটি উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে ময়দানে নামিয়েছে। ইতিমধ্যেই অযোধ্যা পুলিশ মন্দিরের দুই কর্মচারীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। প্রাথমিক সূত্রের খবর, ধৃত ওই দুই কর্মচারীর ডেরা থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকার নগদ ক্যাশ এবং প্রচুর সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই হিমশৈলের চূড়ামাত্র, আসল লুটের অঙ্কটা আরও অনেক বড় বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই বিশাল চুরির কিনারা করা আদেও সম্ভব কি না, তা নিয়ে খোদ নৃপেন্দ্র মিশ্রর মনেই বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। তিনি একপ্রকার অসহায়তা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের মেয়াদ মাত্র ৪৫ দিনের। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহু গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ ইতিমধ্যেই মুছে গিয়েছে, যা চুরির প্রমাণ লোপাটের বড় অস্ত্র হতে পারে। এর চেয়েও বড় আশঙ্কার কথা হলো, বহু ভক্ত যখন সরাসরি রামলালার বিগ্রহের সামনে নগদ টাকা বা সোনাদানা অর্পণ করেন, সেগুলির কোনও পাকা রসিদ বা হিসাব থাকে না। সিসিটিভির নজরদারির বাইরে থাকা এই বেনামি দানের সুযোগ নিয়েই কোটি কোটি টাকার সোনা ও ক্যাশ লুটের এই মাস্টারপ্ল্যান চালানো হয়েছে। ফলে জট পাকানো এই রহস্যের শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে নাকি অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।

[TECHTARANGA-POST:10083]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *