০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ জ্যান্ত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে নিক্ষেপ! বারুইপুর কাণ্ডের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য
অপরাধআইন-কানুনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

জ্যান্ত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে নিক্ষেপ! বারুইপুর কাণ্ডের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য

Share
জ্যান্ত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে নিক্ষেপ! বারুইপুর কাণ্ডের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য
ছবি--প্রতীকী
Share

বারুইপুর: শনিবার বিকেলে বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে পাড়ার দোকানে গিয়েছিল ১১ বছরের ছোট্ট মেয়েটা। আর রবিবার সকালে উদ্ধার হলো তার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। বারুইপুরের ধপধপি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা শিউরে ওঠার মতো। রিপোর্টের পরতে পরতে রয়েছে এক নিষ্পাপ শিশুর ওপর চলা ভয়ঙ্কর ও পাশবিক অত্যাচারের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

[TECHTARANGA-POST:10665]

 ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ওই একরত্তি মেয়ের যৌনাঙ্গে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার ছোট্ট শরীরে মিলেছে একাধিক আঁচড় ও কামড়ের দাগ। কিন্তু সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, অপরাধীরা যখন তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলেছিল, তখনও মেয়েটির শরীরে প্রাণ ছিল, অর্থাৎ জ্যান্ত অবস্থাতেই তাকে জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10653]

রিপোর্টে ‘অ্যান্টিমোর্টেম ড্রাউনিং’ বা জীবিত অবস্থায় জলে ডুবে মৃত্যুর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের পর কোনো ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে বা কোথাও মাথা ঠুকে দিয়ে নাবালিকাকে অচেতন করে ফেলা হয়।

[TECHTARANGA-POST:10660]

 এরপর সে মারা গিয়েছে ভেবে তড়িঘড়ি বস্তায় পুরে পুকুরের জলে ফেলে দেয় অপরাধীরা। অচেতন অবস্থায় জলের নিচে থাকায় মেয়েটির ফুসফুস ও পাকস্থলীতে প্রচুর জল ঢুকে তা ফুলে গিয়েছে। একই সঙ্গে মাথার ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং দমবন্ধ হয়েই শেষ পর্যন্ত মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই ছাত্রী। রবিবারই দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রাথমিক এই রিপোর্ট আসার পর পুলিশের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শনিবার বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় বারুইপুর থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেছিল পরিবার। রাতেই একটি সিসিটিভি ফুটেজে চারজনকে ওই নাবালিকাকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। রবিবার সকালে দেহ উদ্ধারের পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা, এমনকি উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। বর্তমানে বারুইপুর জেলা পুলিশ, এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশের ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদের আটকে রেখে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ম্যারাথন জেরা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *