০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home লাইফস্টাইল শুধু লিভার নয়, মদ্যপানে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্কও; জানুন ভয়াবহ প্রভাব
লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

শুধু লিভার নয়, মদ্যপানে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্কও; জানুন ভয়াবহ প্রভাব

Share
শুধু লিভার নয়, মদ্যপানে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্কও; জানুন ভয়াবহ প্রভাব
এ আই নির্মিত ছবি
Share

 মদ্যপানের ক্ষতি বলতে সাধারণত লিভারের সিরোসিস বা লিভার বিকলের কথাই বেশি শোনা যায়। কিন্তু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল শুধু লিভার নয়, মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্কের ওপরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিয়মিত কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ এবং স্বাভাবিক চিন্তাভাবনার দক্ষতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল সরাসরি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে পারেন না, সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন এবং আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা যন্ত্র পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তখন প্রতিক্রিয়া জানানোর গতি অনেক কমে যায়।

আপনি কি জানেন এই নতুন জেন্ডার নিউট্রাল শব্দ!

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান করলে মস্তিষ্কের কিছু অংশ সংকুচিত হতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা কমে যায় এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অতিরিক্ত রাগ, খিটখিটে মেজাজ এবং সামাজিক আচরণেও নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন মদ্যপানের কারণে শরীরে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন)-এর ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই ঘাটতি গুরুতর স্নায়বিক জটিলতার কারণ হতে পারে, যার ফলে স্মৃতিভ্রংশ, ভারসাম্যহীনতা এবং মানসিক বিভ্রান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এসব ক্ষতির কিছু অংশ স্থায়ীও হয়ে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অ্যালকোহল শুধু মস্তিষ্ক বা লিভার নয়, হৃদযন্ত্র, অগ্ন্যাশয়, পরিপাকতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং মুখ, গলা, খাদ্যনালী, লিভার ও স্তনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

এক জায়গায় দুই রাজ্য! জানেন কি বাংলার এই ‘শেষ বাসস্ট্যান্ড’-এর কথা!

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে। কারণ এ সময় মস্তিষ্কের বিকাশ পুরোপুরি সম্পন্ন হয় না। ফলে অল্প বয়স থেকেই নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা যত দ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রণে আনা বা বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পরিবার-সমাজের সহযোগিতা অ্যালকোহল নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মনে রাখবেন, মদ্যপানের ক্ষতি শুধু লিভারে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নীরবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও ক্ষয় করে, যা একজন মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সচেতনতাই হতে পারে এই ঝুঁকি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *