০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা TMC On ECI: জ্ঞানেশের গ্রেফতারির দাবিতে সরব মমতা-অভিষেক, পাল্টা তোপ বিজেপির!
কলকাতাকলকাতাদিল্লিভারতবর্ষ

TMC On ECI: জ্ঞানেশের গ্রেফতারির দাবিতে সরব মমতা-অভিষেক, পাল্টা তোপ বিজেপির!

Share
TMC On ECI: জ্ঞানেশের গ্রেফতারির দাবিতে সরব মমতা-অভিষেক, পাল্টা তোপ বিজেপির!
জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি দাবি মমতার। ছবি : সংগৃহীত
Share

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Rift) অন্দরে চরম মতবিরোধ ও সংঘাতের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড়। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া, ভোটার নাম ছাঁটাই এবং ভোটার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তির তথ্য সামনে আসতেই কেন্দ্র সরকার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা ময়দানে নেমে বিরোধী অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি-ও। সব মিলিয়ে কমিশনকে কেন্দ্র করে এখন বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত তুঙ্গে।

বিদেশ থেকে চোখের চিকিৎসা করিয়ে ফিরেই এই ইস্যুতে তোপ দাগেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, “বাংলার মানুষের চরম অভিশাপ লেগেছে বলেই আজ এই কারচুপি সর্বসমক্ষে চলে এসেছে। গায়ের জোরে যাঁরা সাংবিধানিক পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে রাজনীতি করছিলেন, তাঁদের আগামী দিনে শ্রীঘরে থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার পরিণতি খুব ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।”

ফেসবুক লাইভে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তোলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বাংলায় প্রায় ৯২ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম সিল করে দেওয়ার পাশাপাশি ইভিএম কারচুপি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসকের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে প্রমান ধ্বংস এবং বুথ এজেন্টদের গ্রেফতারের মাধ্যমে নির্বাচন পুরোপুরি ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার তীব্র দাবি, “জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপির জয়েন্ট ভেঞ্চারে বাংলার নির্বাচন লুট হয়েছে। নৈতিকতা থাকলে বাংলায় নতুন করে নির্বাচন করানো হোক।” একই সঙ্গে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA) তরফে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ ও যৌথ আন্দোলনে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল ও বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। ভারতীয় সেকুলার এবং সাংবিধানিক কাঠামোর দোহাই দিয়ে সম্বিতের প্রশ্ন, “ভোটার ছাঁটাইয়ের কারণে বিজেপি বাংলায় লাভবান হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যে ২০টি বিধানসভা আসনে সর্বাধিক ভোটার ছাঁটাই হয়েছে, তার মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে তৃণমূল আর বিজেপি জিতেছে মাত্র ৬টিতে। যদি ‘ভোট চুরি’ই আমাদের পথ হত, তবে এত আসনে হারতাম কীভাবে?” মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ যাওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।

অন্য দিকে, যাবতীয় বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য খারিজ করে বিবৃতি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, একটি বহুমুখী সাংবিধানিক সংস্থায় সিদ্ধান্তের আগে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও ভিন্নমত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গঠনমূলক প্রক্রিয়া। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বদা সর্বসম্মতিতেই গৃহীত হয়। সংবাদমাধ্যম আংশিক তথ্য পেশ করে দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে কমিশন। তবে বিরোধীদের চরম আক্রমণ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *