০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বাধা ডিঙিয়ে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে অনড় আশাকর্মীরা: দিকে দিকে বিক্ষোভ
পশ্চিমবঙ্গ

পুলিশের বাধা ডিঙিয়ে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে অনড় আশাকর্মীরা: দিকে দিকে বিক্ষোভ

Share
Share

কলকাতা: মাসিক ভাতা বৃদ্ধি ও বকেয়া পাওনার দাবিতে আজ রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা। স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের কয়েক হাজার আশাকর্মী। কিন্তু সকাল থেকেই উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। কোথাও ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা আটক করা হয়েছে আন্দোলনকারীদের।

উত্তরথেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে শহরে পৌঁছনোর সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতেই আশাকর্মীদের ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাঁকুড়ায় বেশ কিছু কর্মীকে জোর করে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবাদে মেদিনীপুরে রেললাইনের ওপর শুয়ে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। পুলিশের নজর এড়াতে অনেক আশাকর্মী নিজেদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম (শাড়ি) বদলে সাধারণ পোশাকে ট্রেনে চেপে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আরামবাগ, খানাকুল ও গোঘাট এলাকা থেকে এভাবে অনেকেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেরিয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে যে, মঙ্গলবার অনেক আশাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে শাসানি দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা, যাতে তাঁরা আন্দোলনে যোগ না দেন। সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন চত্বর আগে থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

কেন এই আন্দোলন? 

আশাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মূলত তিনটি প্রধান দাবিতে সরব হয়েছেন প্রথমত, বর্তমানে তাঁরা যে সাম্মানিক পান, তা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। তাই স্থায়ী ও বর্ধিত মাসিক ভাতার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দ্বিতীয়ত, তাঁদের ‘স্বেচ্ছাসেবী’ না বলে পূর্ণ সময়ের সরকারি কর্মীর মর্যাদা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা দিতে হবে। আর তৃতীয়ত,কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা অনেক ক্ষেত্রে বাকি রয়েছে, যা দ্রুত মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে।

তৃণমূল স্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান কারিগর হলেন এই আশাকর্মীরা (ASHA – Accredited Social Health Activists)। তাঁদের মূল কাজগুলো হলো: গর্ভবতী মহিলাদের রেজিস্ট্রেশন, তাঁদের চেক-আপ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের টিকাকরণ বা ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা। গ্রামীণ মহিলাদের পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন করা। এবং গ্রামে পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং সংক্রামক রোগ (যেমন ডেঙ্গু বা যক্ষ্মা) সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। এছাড়া, প্রসবের সময় বা জরুরি অবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করা এবং সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া।[TECHTARANGA-POST:6093]

পুলিশের এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা আজ স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে অনড়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ, কলকাতা

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *