০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা তিন মাসে ৯ আত্মহত্যা কলকাতা মেট্রোয়, মরণঝাঁপে গভীর উদ্বেগে রেল
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

তিন মাসে ৯ আত্মহত্যা কলকাতা মেট্রোয়, মরণঝাঁপে গভীর উদ্বেগে রেল

Share
Share

কলকাতা: কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে আত্মহত্যার ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত মাত্র ৯০ দিনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর ২ জনকে কোনওমতে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। লাগাতার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Kolkata Metro Railway কর্তৃপক্ষ।

[TECHTARANGA-POST:6318]

মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, নজরদারি বাড়ানো, সচেতনতামূলক প্রচার, প্ল্যাটফর্মে হেল্পলাইন নম্বর টাঙানো—সব চেষ্টা সত্ত্বেও এই প্রবণতা রোখা যাচ্ছে না। সকাল-বিকাল, অফিস টাইম বা অফ-পিক আওয়ার—কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। যে কোনও মুহূর্তেই ঘটছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

প্রায় প্রতিটি ঘটনার জেরে কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে ব্যাহত হয়েছে মেট্রো পরিষেবা। তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ বন্ধ করে উদ্ধারকাজ চালাতে সময় লেগে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর উপর। পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছে মেট্রো চালকদেরও। নিয়ম অনুযায়ী, এমন ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চালককে সাময়িকভাবে ডিউটি থেকে সরিয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে,

২০২৫ সালের নভেম্বর: ৩টি ঘটনা

ডিসেম্বর: ২টি ঘটনা

২০২৬ সালের জানুয়ারি: ৩টি ঘটনা

ফেব্রুয়ারি: ১টি ঘটনা

জানুয়ারিতে দু’টি ক্ষেত্রে প্রাণরক্ষা সম্ভব হলেও, মোটের উপর মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি। ময়দান, মাস্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি, গিরিশ পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর—ব্লু লাইনের একাধিক স্টেশনেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

[TECHTARANGA-POST:6316]

উল্লেখযোগ্য ভাবে, কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে গার্ডরেল বসানোর পর সেখানে আর কোনও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সব স্টেশনে কেন একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? মেট্রো সূত্রে খবর, বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের স্তরে রয়েছে এবং কার্যত ফাইলবন্দি।

আগের বছরের তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

২০২২: ৫ জন

২০২৩: ৪ জন

২০২৪: ৭ জন

২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ জানুয়ারি: ৮ জন

মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সাল থেকেই এই প্রবণতা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে।

মানসিক অবসাদ রুখতে প্রতিটি স্টেশনে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর প্রচার করা হলেও বাস্তবে কেউই সেই নম্বরে ফোন করছেন না। ফলে কলকাতা মেট্রোর পাতালপথে আত্মহত্যার ঘটনা যেন ধীরে ধীরে এক ধরনের ‘রুটিন’-এ পরিণত হচ্ছে—যা শুধু রেল কর্তৃপক্ষ নয়, গোটা শহরের জন্যই গভীর চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *