ঢাকা– জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদেরও দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
[TECHTARANGA-POST:6347]
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “কে রাজনীতি করবে—সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণই নেবে। যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।”
নির্বাচন-পরবর্তী ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমান যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এবার ২৯২টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিলেও বাকি আসনগুলো জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
[TECHTARANGA-POST:6323]
বিদেশনীতির প্রশ্নে তারেক রহমান কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার অগ্রাধিকার হবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তরুণদের কর্মসংস্থান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে পক্ষই আমার দেশ ও জনগণের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখব। আমাদের লক্ষ্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।”
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দেশে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment