০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল-বিজেপি দুই দলকেই চ্যালেঞ্জ, নতুন দল গড়ে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা রাজন্যার!
পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূল-বিজেপি দুই দলকেই চ্যালেঞ্জ, নতুন দল গড়ে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা রাজন্যার!

Share
তৃণমূল-বিজেপি দুই দলকেই চ্যালেঞ্জ, নতুন দল গড়ে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা রাজন্যার!
Share

কলকাতা: রাজনীতির আঙিনায় ধুমকেতুর মতো উত্থান হয়েছিল তাঁর। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য হয়ে রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন রাজন্যা হালদার। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই বদলেছে সমীকরণ। আর জি কর কাণ্ড ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবিরও তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি।

[TECHTARANGA-POST:7462]

এই পরিস্থিতিতে দমে না গিয়ে নিজেই বড় পদক্ষেপ করলেন রাজন্যা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও বড় দলের ছায়া ছাড়াই এবার তিনি সরাসরি ভোটের ময়দানে নামছেন।

রাজন্যা হালদার এদিন শুধু দল ঘোষণাই করেননি, পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রও খোলসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি দু’টি আসন থেকে লড়াই করবেন। যার মধ্যে অন্যতম হল সোনারপুর দক্ষিণ। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক তৃণমূলের লাভলি মৈত্র। ফলে একসময়ের সহকর্মীর বিরুদ্ধেই রাজন্যার এই সম্মুখ সমর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

[TECHTARANGA-POST:7461]

বিগত কয়েকমাসে রাজনীতির অলিন্দে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রাজন্যা এদিন বেশ আত্মবিশ্বাসী মেজাজে ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভোটের ময়দানে থাকবই। ২০২৬ আমাদের কাছে একটা বিন্দু। আমরা হয়তো সরকার বদলে দিতে পারব না, বা সিন্ধু তৈরি করতে পারব না। কিন্তু হারি কি জিতি, লড়াইয়ের ময়দান থেকে একচুলও সরব না।”

এদিন তাঁর নবগঠিত দলের পক্ষ থেকে একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেন তিনি। যেখানে মূলত কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন – রাজ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্ব ও চাকরি সঙ্কটের মোকাবিলা করা, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারগুলি রক্ষা করা ইত্যাদি।

একুশে জুলাইয়ের সেই তেজস্বী বক্তৃতার পর রাজন্যা হালদারকে ছাত্র রাজনীতির উঠতি মুখ হিসাবে দেখেছিল তৃণমূল। কিন্তু, আর জি কর আবহে তাঁর তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি কেন্দ্র করে বিতর্ক চরম আকার নেয়। দলের অন্দরেই সমালোচিত হন তিনি। এরপর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায়, নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় এবার নিজেই ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ গড়ে লড়াইয়ে নামলেন এই তরুণী নেত্রী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *