রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমাজমাধ্যমে সরাসরি ‘খুনের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অজয় অলকের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একটি বিতর্কিত স্ক্রিনশট (যার সত্যতা যাচাই করেনি হিডেন স্টোরিজ নিউজ) শেয়ার করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের একটি ভিডিও রি-পোস্ট করে অজয় অলক হিন্দিতে লিখেছেন, “দিদি, ভয় দেখালে আপনাকে গুলি করে মারা হবে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংস্কৃতিকে আক্রমণ শানিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বাংলাতেও উত্তরপ্রদেশ-বিহারের ‘ঠোক দো’ বা ‘গুলি মারো’ সংস্কৃতি আমদানির চেষ্টা করছে। জনৈক বিজেপি মুখপাত্রের এই আচরণ পশ্চিমবঙ্গের নারীদের নিরাপত্তার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন বলে দাবি করেছে রাজ্যের শাসকদল।
[TECHTARANGA-POST:8477]
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ‘নীরবতা’ নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তের দাবি, একদিকে যখন বিজেপি মুখপাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক নর্তকীর সঙ্গে চটুল গানে নাচছেন। তাঁর অভিযোগ, সব দেখেও কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যদিও অজয় অলক পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তৃণমূল হিন্দি বোঝে না এবং তারা মিথ্যে সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে হানা দেওয়ার একটি ভিডিও নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যা ঘিরেই এই উত্তপ্ত বাদানুবাদ। নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তের এই সংঘাত যেমন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তেমনই শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাকযুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।
Leave a comment