০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দুর্ঘটনা পাহাড়ে জমে লক্ষ লক্ষ টন জল ও ধ্বংসস্তূপ! যে কোনও মুহূর্তে ভাঙতে পারে প্রাকৃতিক বাঁধ, নেপালে দ্বিতীয় হড়পা বানের চরম সতর্কতা
দুর্ঘটনাপ্রাকৃতিক দুর্যোগভারতবর্ষ

পাহাড়ে জমে লক্ষ লক্ষ টন জল ও ধ্বংসস্তূপ! যে কোনও মুহূর্তে ভাঙতে পারে প্রাকৃতিক বাঁধ, নেপালে দ্বিতীয় হড়পা বানের চরম সতর্কতা

Share
Share

কাঠমান্ডু: ধ্বংসের ক্ষত এখনও টাটকা, তার মাঝেই নেপালের বুকে নতুন করে ঘনাচ্ছে আরও এক মহা বিপর্যয়ের কালো মেঘ। বুধবারের তাণ্ডবের পরেও বিপদ এতটুকু কাটেনি, বরং যে কোনও মুহূর্তে ধেয়ে আসতে পারে দ্বিতীয় দফার হড়পা বান।

[TECHTARANGA-POST:12020]

 বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলে নেপাল-চিন সীমান্তের গিরিখাতে এখনও আটকে রয়েছে বরফ, পাথর ও কাদার এক বিশালাকার প্রাকৃতিক বাঁধ। কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা ‘ইসিআইএমওডি’ (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞরা চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করে জানিয়েছেন, পাহাড়ের বুকে জমে থাকা সেই সুবিশাল বাধা যদি হঠাৎ ভেঙে যায়, তবে বিপুল জলরাশি নিয়ে ফের আছড়ে পড়বে আরও ভয়ঙ্কর হড়পা বান। ২৬ অগস্ট সকাল ন’টা নাগাদ আচমকাই দানবীয় রূপ ধারণ করে ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোটেকোশী নদী। নিমেষের মধ্যে জল, পাথর ও কাদার সেই ঘাতক স্রোত মিশে যায় ত্রিশূলী নদীতে এবং ভাসিয়ে নিয়ে যায় রসুয়া, ধাদিং ও নুয়াকোটের বিস্তীর্ণ জনপদ। গালছিতে মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার এবং মালেখুতে ৭ মিটার বেড়ে যাওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা প্রমাণ করে ঠিক কতটা তাণ্ডব নেমে এসেছিল উপত্যকায়।

ভেসে গেল বাড়ি, গাড়ি, ব্রিজ! নেপালের হড়পা বানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, লহেন্দে খোলা নদীর ওপর বিশালাকার বরফ ও পাথরের যৌথ ধস নামার ফলেই নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সেই কৃত্রিম বাঁধের পিছনে বিপুল জল জমতে জমতে চরম চাপে তা এক নিমেষে ফেটে গিয়ে নীচের দিকে ধেয়ে আসে। তবে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, পাহাড়ের খাঁজে সেই ধসের ধ্বংসাবশেষ এখনও পুরোপুরি সরে যায়নি এবং সেখানে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পিছনে এখনও আংশিকভাবে জল জমছে। ‘ইসিআইএমওডি’-র জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্বিতীয় বানের এই প্রবল আশঙ্কার কারণে চিনের জিলং বন্দর এলাকা থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জিলং ও ঝাংমু এলাকার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে অস্বাভাবিক ভূকম্পীয় সংকেত ধরা পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় ও বিপজ্জনক করে তুলছে।

[TECHTARANGA-POST:12013]

হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ, তুষার ও চিরহিমায়িত ভূস্তর বা পারমাফ্রস্টের দ্রুত পরিবর্তন এই জাতীয় বহুস্তরীয় দুর্যোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মত ভূবিজ্ঞানীদের। তবে এই মুহূর্তে নেপাল প্রশাসনের প্রধান মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকা সেই লক্ষ লক্ষ টন জল ও ধ্বংসাবশেষ। সেই ভঙ্গুর বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তের মধ্যে ফের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে নিম্নাঞ্চল। তাই ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর গতিপথ-সহ নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট এবং ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *