০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ভোটাধিকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ‘তিন ভূত’ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন – বিজেপিকে আক্রমণ অভিষেকের!
পশ্চিমবঙ্গ

ভোটাধিকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ‘তিন ভূত’ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন – বিজেপিকে আক্রমণ অভিষেকের!

Share
Share

বছরের গোড়া থেকেই চতুর্থবার রাজ্যে তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলাজুড়ে প্রচার শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সাগর সংঘ মাঠে রণসংকল্প সভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রচারের সূচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছিল ৩০টি আসন। একমাত্র ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র গিয়েছিল আইএসএফ-এর দখলে। সেই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ২০২৬ সালে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না—বারুইপুর পূর্বের সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক। ভাঙড়কে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই কেন্দ্র ঘিরে সংগঠন আরও শক্ত করা হবে এবং ভোটের ময়দানে কোনও রকম ফাঁক রাখা হবে না।

কিছুদিন আগেই বঙ্গ সফরে এসে নির্বাচনী প্রচারের অঘোষিত সূচনা করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান বা উন্নয়নের কোনও বাস্তব রূপরেখা না দিয়েই শুধু প্রতীকী কথাবার্তায় ভোট চাইছে বিজেপি। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে বিজেপির বক্তব্যের কোনও মিল নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি—যেখানে ‘সোনার বাংলা’ কথাটা কার্যত স্লোগানেই সীমাবদ্ধ।

এর পাশাপাশি এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। 

ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অথচ যাঁরা জীবিত—তাঁদেরই সভামঞ্চে হাজির করিয়ে র‌্যাম্পে হাঁটান অভিষেক। মিনিট পনেরোর বক্তৃতার পর তিনি সভাস্থলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, অনেকেরই কৌতূহল—কেন এই র‌্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, কে হাঁটবে এখানে। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই র‌্যাম্পে ডেকে আনা হয় তিনজনকে।

অভিষেক জানান, র‌্যাম্পে যাঁদের হাঁটানো হচ্ছে, তাঁরা তিনজনই ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত। তাঁদের মধ্যে মণিরুল ইসলাম মোল্লা ও হরেকৃষ্ণ গিরি মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার বাসিন্দা এবং মায়া দাস কাকদ্বীপ বিধানসভার ভোটার। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে, তিনজনের নামই ‘ডেড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অন্তত ২৪ জন জীবিত নাগরিককে মৃত দেখানো হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায়। অভিষেকের প্রশ্ন, কোনওদিন কি মৃত মানুষকে র‌্যাম্পে হাঁটতে দেখা যায়? তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে।

SIR প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই ‘অপরিকল্পিত’ ও ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগও তুলেছে শাসক দল। দু’দিন আগেই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। SIR প্রক্রিয়ার গাফিলতি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে হেনস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করে আগামী দিনে জনসংযোগ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক। 

রণসংকল্প সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও জনপ্রতিনিধি। সভামঞ্চে ছিলেন সায়নী ঘোষ, লাভলী মৈত্র, সওকত মোল্লা সহ দলের অন্যান্য নেতারা। কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে সভাস্থল। বারুইপুরের এই সভা দিয়েই কার্যত মিশন ২০২৬-এর রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *