০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ মধ্যপ্রদেশে আক্রান্ত অসমের ছাত্র: অমরকন্টক বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা
ভারতবর্ষ

মধ্যপ্রদেশে আক্রান্ত অসমের ছাত্র: অমরকন্টক বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা

Share
Share

মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটিতে (IGNTU) এক ছাত্রের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ছাত্রটি অসমের বাসিন্দা। হস্টেলের ভেতরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, বিশেষ করে এনসিসি (NCC) ক্যাডেট ও সাধারণ পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রটি অসম থেকে অমরকন্টকে পড়তে এসেছিলেন। অভিযোগ, হস্টেলের মধ্যেই কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একদল ছাত্র তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে শারীরিকভবে হেনস্থা করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পড়ুয়ারা।

হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে অবস্থানে বসেন বহু ছাত্রছাত্রী। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে একটা বড় অংশ এনসিসি-র সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ গুন্ডামির হাত থেকে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, আক্রান্ত ছাত্রের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলার গ্যারান্টি দিতে হবে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে হস্টেল থেকে বহিষ্কার ও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ক্যাম্পাসের ভেতরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতভেদও তৈরি হয়েছে। ছাত্রদের একটি অংশের দাবি, এই হামলাটি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা জাতিগত বিদ্বেষের ফল হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর মতো কিছু মন্তব্য উঠে এলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পড়ুয়াই এই হিংসার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিদ্বেষের বদলে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস চান।

আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের সাথে আলোচনায় বসে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *