০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ এসএসসি নিয়োগে বয়সের ছাড়ে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ: আপাতত ধাক্কা খেলেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা
পশ্চিমবঙ্গ

এসএসসি নিয়োগে বয়সের ছাড়ে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ: আপাতত ধাক্কা খেলেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা

Share
Share

কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতির জট যেন কাটছেই না। ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পর নতুন নিয়োগে বয়সের ছাড় নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ফলে যে সকল নতুন প্রার্থী বয়সের ছাড় পেয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বসার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আপাতত বিশ বাঁও জলে।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি বা নতুন করে যুক্ত হতে চাইছেন, তাঁরাও বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় পাবেন। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখনই এই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। শীর্ষ আদালত এই মামলার সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং আগামী মার্চ মাসে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। তার আগে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যাঁরা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ মেলেনি, তাঁরা নতুন নিয়োগে বসার সুযোগ পাবেন এবং প্রয়োজনে বয়সেও ছাড় পাবেন।

এই নির্দেশের সূত্র ধরেই একদল নতুন চাকরিপ্রার্থী (যাঁরা ২০১৬-র তালিকায় ছিলেন না) হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি সিংহ গত ১২ ডিসেম্বর জানিয়েছিলেন, কমিশন যেহেতু আলাদা করে কোনো ‘দাগি’ তালিকা প্রকাশ করেনি, তাই আপাতত যাঁদের নাম দুর্নীতির তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের সেই ছাড় প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এই রায়ের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল।

এসএসসি নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করলেও আইনি জটে তা বারবার থমকে যাচ্ছে। একদিকে বাতিল হওয়া ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে আছে, অন্যদিকে ওএমআর (OMR) শিট কারচুপি এবং ভুয়ো সুপারিশ নিয়ে সিবিআই তদন্তের জাঁতাকলে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের নির্দেশের ফলে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের মার্চ মাস। মূলত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদের সেই সব নতুন প্রার্থীরা, যাঁদের বয়স নির্ধারিত সীমা পার হয়ে গেছে। স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করা এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা বারবার অভিযোগ করছেন যে, অযোগ্যদের আড়াল করতে গিয়ে যোগ্যরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশ রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মার্চ মাসের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কি বয়সের ছাড় বহাল রাখবে? নাকি নতুন প্রার্থীদের জন্য নিয়ম আরও কড়া হবে? সেদিকেই তাকিয়ে কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *