০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ভোটারতালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনকে সুপ্রিম নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গ

ভোটারতালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনকে সুপ্রিম নির্দেশ

Share
Share

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটারতালিকা সংশোধন ও ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে চলা বিতর্কে হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটারতালিকায় নাম থাকা প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির নোটিশ ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সাধারণ মানুষের উপর যাতে অহেতুক চাপ বা হয়রানি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে। আদালতের প্রধান নির্দেশগুলি হল-

তালিকা প্রকাশ: কাদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত ত্রুটির নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেই তালিকা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং পুরসভা বা পুরনিগমের ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে।

অনুমোদিত প্রতিনিধি: সাধারণ ভোটারদের সশরীরে হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ভোটাররা তাঁদের হয়ে নথিপত্র জমা দেওয়া বা আপত্তির কথা জানানোর জন্য অনুমোদিত প্রতিনিধি (যেমন বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ) পাঠাতে পারবেন। এর জন্য একটি সাধারণ অথোরাইজেশন লেটার বা টিপছাপ সম্বলিত চিঠি থাকলেই চলবে।

স্থানীয়স্তরে শুনানি: সাধারণ মানুষকে যাতে শুনানির জন্য বহু কিলোমিটার দূরে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে শুনানি ও নথিপত্র জমা নেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।

সময়সীমা বৃদ্ধি: যাঁদের নোটিশের সময় পার হয়ে গিয়েছে, তাঁদেরও অতিরিক্ত সময় দিতে হবে নথিপত্র পেশ করার জন্য। তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে।

প্রাপ্তি স্বীকার: নথিপত্র জমা দিলে বা শুনানি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে তার লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার (Certificate of Receipt) দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটারতালিকায় বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল, বয়সের ব্যবধানে অসঙ্গতি বা ছবির অস্পষ্টতার মতো কারিগরি ও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে সেগুলিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিভাগে ফেলা হয়েছে। এই ত্রুটি সংশোধনের জন্যই কোটি কোটি ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কোনও লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিএলও-দের নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে, যা ভোটারদের হয়রানির শামিল। আদালতের এই নয়া নির্দেশের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রাজ্য সরকারকে এই প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জনবল সরবরাহের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। জেলাশাসকদের ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়টি তদারকি করতে বলা হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *