০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home অর্থনীতি রুপোর দামে রেকর্ড বৃদ্ধি: রুপোর ইটিএফ-এ বিনিয়োগের আগে যা যা জানা জরুরি
অর্থনীতি

রুপোর দামে রেকর্ড বৃদ্ধি: রুপোর ইটিএফ-এ বিনিয়োগের আগে যা যা জানা জরুরি

Share
Share

মুম্বই: বিশ্ববাজারে রুপোর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর ফলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রুপোর প্রতি আগ্রহ তুঙ্গে। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং শিল্পক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে অনেকেই এখন ফিজিক্যাল সিলভার বা রুপোর গয়নার বদলে ‘সিলভার ইটিএফ’ (Exchange Traded Fund)-এর দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সব সিলভার ইটিএফ সমান রিটার্ন দেয় না। একই বিশুদ্ধতার রুপো ট্র্যাক করা সত্ত্বেও বিভিন্ন ফান্ডের রিটার্ন ও দামে পার্থক্য দেখা যায়।

কেন ইটিএফ-এর দামে পার্থক্য হয়? 

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলভার ইটিএফ-এর দাম শুধুমাত্র রুপোর বর্তমান বাজারদরের উপর নির্ভর করে না। এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে:

১. এক্সপেন্স রেশিও: প্রতিটি ফান্ড পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট খরচ থাকে, যার মধ্যে ইমপোর্ট ডিউটি, জিএসটি, ভল্ট বা গুদামজাত করার খরচ এবং ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। যে ফান্ডের এক্সপেন্স রেশিও যত বেশি, দীর্ঘমেয়াদে তার রিটার্ন ততটা কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

২. ট্র্যাকিং এরর: ইটিএফ-এর প্রধান কাজ হল রুপোর বাজারদরকে হুবহু অনুসরণ করা। কিন্তু, দক্ষ পরিচালনার অভাবে অনেক সময় ইটিএফ-এর এনএভি (ন্যাভ) এবং রুপোর প্রকৃত দামের মধ্যে সামান্য পার্থক্য তৈরি হয়, একেই বলা হয় ট্র্যাকিং এরর।

৩. টাকার দরের ওঠানামা: ভারত মূলত রুপো আমদানি করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্যের পরিবর্তন হলে দেশীয় সিলভার ইটিএফ-এর রিটার্ন প্রভাবিত হয়। 

৪. চাহিদা ও জোগান: বাজারে কোনও নির্দিষ্ট ইটিএফ-এর চাহিদা খুব বেশি হলে তা তার এনএভি-র তুলনায় প্রিমিয়াম বা বেশি দামে ট্রেড করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: 

ভিএসআরকে ক্যাপিটালের ডিরেক্টর স্বপ্নিল আগরওয়াল জানান, দুটি সিলভার ইটিএফ-এর ইউনিটের দাম ভিন্ন হলেও তাদের শতাংশের হিসেবে রিটার্ন একই হতে পারে। কারণ ইটিএফ-এর দাম নির্ধারিত হয় সেটি যখন প্রথম শুরু হয়েছিল সেই সময়ের রুপোর দরের ভিত্তিতে। যেমন—অ্যাক্সিস সিলভার ইটিএফ-এর এনএভি যেখানে প্রায় ২৮৭ টাকা, সেখানে এডেলউইস সিলভার ইটিএফ-এর এনএভি মাত্র ১২ টাকার আশেপাশে।

কেন রুপো এখন আকর্ষণীয়? 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক্স এবং গ্রিন টেকনোলজির মতো শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সোনা ও রুপোর মতো ধাতুকে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ মনে করা হচ্ছে। গত এক বছরে অনেক সিলভার ইটিএফ প্রায় ৫১% পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে।

তবে বিনিয়োগ করার আগে ফান্ডের ‘লিকুইডিটি’ বা তারল্য এবং ‘ট্র্যাকিং এরর’ ভালো করে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে বাজার চড়লেও আপনি সঠিক মুনাফা ঘরে তুলতে পারেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *