০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পিছোচ্ছে দু’সপ্তাহ, সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ ২৪ জানুয়ারির মধ্যে
পশ্চিমবঙ্গ

এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পিছোচ্ছে দু’সপ্তাহ, সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ ২৪ জানুয়ারির মধ্যে

Share
Share

কলকাতা: আশঙ্কা ছিলই, অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে রাজ্যে এসআইআর বা বিশেষ সংশোধিত ভোটারতালিকা প্রকাশের সময়সীমা অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পূর্ব নির্ধারিত ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা কমিশনের কাছে কার্যত পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কমিশন যে সমস্ত ভোটারদের তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করেছে, তাঁদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। দিল্লির নির্বাচন কমিশন থেকে রাজ্য সিইও দফতরে নির্দেশ এসেছে, আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে এই তালিকা টাঙিয়ে দিতে হবে। তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের নথি জমা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০ দিন সময় দিতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে লক্ষ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি থাকায় এবং জেলাস্তরে নোটিস তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় কমিশন সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। যার ফলে শুনানির নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি। যা আগে ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর পাশাপাশি, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণও বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। যা আগে ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এছাড়াও আদালতের নির্দেশ মেনে কমিশন জানিয়েছে, বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের শংসাপত্রের পাশাপাশি এখন থেকে অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণ করা হবে, যদি তাতে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে। সেইসঙ্গে, শুনানির পর ভোটারদের প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশকে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভোটারতালিকা প্রকাশে দেরি হওয়ার প্রভাব সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণে পড়তে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও আগামী ৫ মে-র মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, নচেৎ রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ইআরও ও এইআরও-রা নির্দিষ্ট গাইডলাইনের অভাবে শুনানির কাজ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, দু’সপ্তাহ সময় বাড়লেও ১ কোটির বেশি মানুষের আপত্তি ও শুনানি সামলানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *