০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলকে সামাজিক বয়কটের ডাক অর্জুন সিংয়ের: ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা’ করার নিদান
পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূলকে সামাজিক বয়কটের ডাক অর্জুন সিংয়ের: ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা’ করার নিদান

Share
Share

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, তৃণমূল কর্মীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার ডাক দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়।

ব্যারাকপুরের এই দাপুটে নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনো স্তরেই আপস করা চলবে না। তাঁর বক্তব্য হলো, তৃণমূলের কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না। এমনকি তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে কোনো নিমন্ত্রণ থাকলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। নিজের মনে তৃণমূলের প্রতি ঘৃণা ও জেদ পুষিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “নিজেদের রক্তে আগুন জ্বালাতে হবে।”

দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি নিদান দিয়েছেন, “ডান্ডা মেরে তৃণমূল কর্মীদের ঠান্ডা করুন।” তাঁর মতে, মেকি লড়াইয়ের দিন শেষ, এবার সরাসরি যুদ্ধ করতে হবে।

অর্জুন সিংয়ের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবন বারবার দলবদলের সাক্ষী থেকেছে, ২০১৯ সালে  তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ব্যারাকপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তারপর ২০২২ সালে বিজেপি ছেড়ে পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন। কিন্তু, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে ফের বিজেপিতে যোগ দেন।

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পার্থ ভৌমিকের কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে হারের পর তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর দলবদল করবেন না এবং বিজেপিতে থেকেই লড়াই চালাবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে হারের পর এলাকায় নিজের জমি শক্ত করতে এবং কর্মীদের একজোট করতেই অর্জুন সিং এই ধরনের ‘গরম’ ভাষণ দিচ্ছেন। তবে তাঁর “ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা” বা “সামাজিক বয়কটের” ডাক উসকানিমূলক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসক দল।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা জানানো হয়েছে যে, পায়ের তলার মাটি হারিয়ে অর্জুন সিং এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *