০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? চড়ছে উত্তেজনার পারদ
ভারতবর্ষ

সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? চড়ছে উত্তেজনার পারদ

Share
Share

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারতালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত এবার দেশের শীর্ষ আদালতে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনত ডিগ্রিধারী মমতা নিজেই নিজের মামলার সওয়াল করতে পারেন (একজন মামলাকারী বা আবেদনকারী হিসাবে) বলে জানা গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:6264]

সর্বশেষ আপডেট ও শুনানির মূল নির্যাস (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬):

এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে যে ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং এর মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে।

আধার কার্ডের তথ্য সঠিকভাবে ব্যবহার না করে ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও একটা অভিযোগ উঠেছে। যার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। তিনি আদালতে আবেদন জানিয়েছেন, যেন আধার সংক্রান্ত কোনও অজুহাতে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান আর্জি হল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যেন ২০২৫ সালের চূড়ান্ত ভোটারতালিকার ভিত্তিতেই করা হয়। মাঝপথে এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছন। তাঁর নামে আগেই গেট পাস ইস্যু করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে (যাতে রয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি) এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির দোহাই দিয়ে যে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তা বন্ধ করা হোক। এছাড়া ঢালাওভাবে ‘ফর্ম-৭’ ব্যবহার করে নাম কাটার প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

১. মামলার সূত্রপাত: নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ভোটারতালিকা সংশোধনের জন্য যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এটি মূলত বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে বিরোধী দল পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

২. পূর্ববর্তী নির্দেশ: এর আগে ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ১.২৫ কোটি ভোটারের নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে টাঙাতে হবে যাতে মানুষ সহজে নিজেদের নাম যাচাই করতে পারে। রাজ্য সরকারকে এই কাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৩. মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই: গত ২৮ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই মামলায় পিটিশন দাখিল করেন। তাঁর আগে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন এবং জনৈক মোস্তারি বানু একই বিষয়ে মামলা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, এই SIR প্রক্রিয়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং এটি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত।

৪. রাজনৈতিক গুরুত্ব: ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ভোটারতালিকা নিয়ে এই আইনি লড়াই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি সফরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। কিন্তু, সেখানে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হন বলে দাবি সূত্রের।

এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের শীর্ষ আদালতের সওয়ালে অংশ নেওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখছেন। ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করছে বাংলার পরবর্তী নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি। এমনটাই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের একাংশ। 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *