নয়াদিল্লি ও কলকাতা: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের শুরু করা ইমপিচমেন্টের লড়াইয়ে (ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার পক্ষে আগেই সওয়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের) নয়া মোড়। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠোর পদক্ষেপের পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্য শরিক দলগুলিও। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং আরও বেশ কিছু বিরোধী শক্তি তৃণমূলের আনতে চলা এই ইমপিচমেন্ট মোশন বা বরখাস্তের প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিষয়টি আর কেবল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রইল না। বরং, তা জাতীয় স্তরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের এক সম্মিলিত আন্দোলনের রূপ নিল।
সংসদের অলিন্দে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ইমপিচমেন্ট মোশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেন, “যা বলার আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলে দিয়েছেন। যখন যা হবে, দেখতে পাবেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, তলে তলে বিরোধী জোটের সলতে পাকানোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বড় কোনও ঘোষণার অপেক্ষা কেবল সময়ের ব্যাপার।
[TECHTARANGA-POST:6271]
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় ভোটারতালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ জানাতে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটারতালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ তৃণমূল সমর্থকের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের সদর দফতরে বৈঠকের সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূল প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অত্যন্ত ‘অহংকারী’ ও ‘রুক্ষ’ ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি ভোটারতালিকা সংক্রান্ত প্রামাণ্য তথ্য দিতে চাইলেও কমিশনার তা শুনতে অস্বীকার করেন এবং কার্যত প্রতিনিধিদের অপমান করে বৈঠক ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
[TECHTARANGA-POST:6276]
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে চান। ভারতের সংবিধানে কোনও নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে গেলে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তা কঠিন হলেও বিরোধীরা একে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে। কংগ্রেসের কে.সি. বেণুগোপাল এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ইতিপূর্বেই এই বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষা করা জরুরি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারতালিকা নিয়ে এই সংঘাত এখন দিল্লির রাজপথ থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। একদিকে তৃণমূল যখন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির হয়ে কাজ করার’ অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের এই একজোট হওয়া মোদী সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, অভিষেকের ইঙ্গিত অনুযায়ী ‘সময়’ এলে বিরোধী শিবির কোন বড় চমক দেয়।
Leave a comment