০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ আরএসএসের অনুষ্ঠানে হঠাৎ সলমন খান, মন দিয়ে শুনলেন ভাগবত-কথা
ভারতবর্ষভারতবর্ষ

আরএসএসের অনুষ্ঠানে হঠাৎ সলমন খান, মন দিয়ে শুনলেন ভাগবত-কথা

Share
Share

মুম্বই: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজ বিশ্বের অন্য যে কোনও সংগঠনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা—এমনই দাবি করলেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “‘হিন্দু’ কোনও বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ। ভারতে যাঁরা বাস করেন, প্রত্যেকেই হিন্দু।”

[TECHTARANGA-POST:6346]

এই অনুষ্ঠানে হঠাৎই উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলিউড সুপারস্টার সলমন খান-কে। বক্তৃতা চলাকালীন তাঁকে সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে ভাগবতের কথা শুনতে দেখা যায়। সলমনের পাশেই উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ ঘাই এবং খ্যাতনামা গীতিকার ও লেখক প্রসূন যোশী। তিনজনকেই ভাগবতের ভাষণে গভীর মনোযোগী দেখা যায়।

ভাষণে মোহন ভাগবত বলেন, সংঘ শুরু থেকেই ঠিক করেছিল যে তাদের কাজ হবে সমগ্র সমাজকে সংগঠিত করা—এর বাইরে আর কিছু নয়। তাঁর কথায়, “অনেকে বলেন নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর একটি আলাদা রাজনৈতিক দল আছে—বিজেপি। সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সংঘ ক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার সন্ধানে নেই।”

[TECHTARANGA-POST:6343]

তিনি আরও বলেন, সংঘ প্রতিযোগিতা বা বিরোধিতার রাজনীতি করতে চায় না। “আমাদের কাজ কারও বিরোধিতা না করেই সম্পন্ন হয়। দেশে যে ভালো কাজগুলি হচ্ছে, সেগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেই সংঘের অস্তিত্ব,” বলেন ভাগবত।

ধর্ম ও সমাজব্যবস্থা প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধানের বক্তব্য, “ভারতের চিরন্তন স্বভাব অপরিবর্তিত। ঋষি ও সন্তদের বিশ্বাস ছিল—যেহেতু সবাই আমাদেরই অংশ, তাই জ্ঞান সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ধর্ম ভারতের প্রাণ। কাউকে বাদ দিয়ে সমাজ এগোতে পারে না।”

ভারতের বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানরাও ভারতেরই অংশ। আমরা বিশ্বনেতা হব, কিন্তু বক্তৃতা দিয়ে নয়—উদাহরণ তৈরি করেই।”

‘হিন্দু’ পরিচয় নিয়ে নিজের ব্যাখ্যায় ভাগবত বলেন, ভারতে চার ধরনের হিন্দু রয়েছেন—

একদল গর্বের সঙ্গে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন,

দ্বিতীয় দল বলেন হিন্দু হওয়া নিয়ে গর্বের কিছু নেই,

তৃতীয় দল সংকোচের সঙ্গে পরিচয় দেন,

আর চতুর্থ দল হয় ভুলে গিয়েছেন, নয়তো ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা হিন্দু।

সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার-এর প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও হেডগেওয়ার কখনও পড়াশোনা ও দেশের কাজে অংশগ্রহণ—এই দুই আদর্শ থেকে সরে যাননি।

ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েও মন্তব্য করেন সংঘপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, “‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। ধর্মই জীবনব্যবস্থার ভিত্তি। তাই একে সাম্প্রদায়িকতা বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত।”

[TECHTARANGA-POST:6339]

আরএসএস-এর শতবর্ষের মঞ্চে ভাগবতের বক্তব্যের পাশাপাশি সলমন খানের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *