০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ পশ্চিমবঙ্গ রাতদুপুরে বাইকে চেপে কলেজে আমির-অরিজিৎ! অধ্যক্ষের পোস্ট ঘিরে তোলপাড় বাংলা, তুঙ্গে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গভারতবর্ষসোশ্যাল মিডিয়া

রাতদুপুরে বাইকে চেপে কলেজে আমির-অরিজিৎ! অধ্যক্ষের পোস্ট ঘিরে তোলপাড় বাংলা, তুঙ্গে বিতর্ক

Share
Share

জিয়াগঞ্জ: গভীর রাতে কলেজের গেট খুলে ভেতরে ঢুকল একঝাঁক মোটরবাইক। একটি স্কুটির পিছনে বসে রয়েছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান, আর চালকের আসনে স্বয়ং জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র অরিজিৎ সিং। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ রানি ধন্যাকুমারী কলেজের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। সুর আর সেলুলয়েডের দুই মহাতারকার এমন ‘অনধিকার’ প্রবেশ নিয়ে নীতি ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে পোস্ট করতেই চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন খোদ কলেজের অধ্যক্ষ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১টা ৫ মিনিট নাগাদ জনা কুড়ি যুবক ১০টি মোটরবাইক নিয়ে কলেজের গেটে হাজির হন। সেই দলেই ছিলেন আমির খান ও অরিজিৎ সিং। কলেজের নৈশপ্রহরীকে জানানো হয়, ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেওয়া আছে। গেট খুলতেই তাঁরা ভেতরে ঢোকেন এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সেখানে কাটান। রাত ২টো ২০ মিনিটে তাঁরা কলেজ চত্বর ত্যাগ করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই সময় নৈশপ্রহরীকেও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। ফেসবুকে তিনি দুটি ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—

“বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তাঁরা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞার বিষয়? কোনো অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কলেজ চত্বর ব্যবহার করা কি নৈতিকভাবে ঠিক?”

অধ্যক্ষের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু প্রিয় শিল্পীদের নিয়ে এমন মন্তব্যের পর থেকেই অধ্যক্ষের কাছে একের পর এক ‘হুমকি ফোন’ আসতে শুরু করে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ‘বিব্রত’ বোধ করে এবং জিয়াগঞ্জ ও কলেজের সম্মান রক্ষার্থে পোস্টটি মুছে দিতে বাধ্য হন তিনি।

অজয় অধিকারী জানান, ব্যক্তিগতভাবে অরিজিৎ ও আমির তাঁরও অত্যন্ত প্রিয় শিল্পী। তবে একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে শৃঙ্খলার জায়গা থেকেই তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রশ্ন তুলেছিলাম। তাঁরা আসতেই পারেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেই বিষয়টি মানুষ ভুল বুঝছে দেখে আমি পোস্ট ডিলিট করেছি। নতুন করে আর বিতর্ক চাই না।”

কলেজের ব্যাডমিন্টন কোর্ট এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ওই ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সেখানে ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। তাঁরা কি শুধুই ব্যাডমিন্টন খেলেছেন, নাকি কোনো সিনেমার শ্যুটিং বা রেকর্ডিংয়ের রেইকি চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিখ্যাত মানুষেরা কি নিয়মের ঊর্ধ্বে? নাকি একজন অধ্যক্ষের প্রতিবাদের ভাষা আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল? এই দুই বিতর্কের মাঝেই এখন উত্তাল জিয়াগঞ্জ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *