০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home খেলা শর্তসাপেক্ষে ভারত-ম্যাচে রাজি পাকিস্তান? লাহৌরে ম্যারাথন বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টার অপেক্ষা
খেলা

শর্তসাপেক্ষে ভারত-ম্যাচে রাজি পাকিস্তান? লাহৌরে ম্যারাথন বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টার অপেক্ষা

Share
Share

লাহোর: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনে কি অবশেষে ইতি পড়তে চলেছে? লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দীর্ঘ বৈঠকের পর মিলছে ইতিবাচক ইঙ্গিত। জানা গেছে, বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি হতে পাকিস্তান ৩টি শর্ত রেখেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি।

লাহোরে ম্যারাথন বৈঠক ও ত্রিমুখী চাপ

রবিবার আইসিসি-র ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা ও প্রতিনিধি মুবাশির উসমানি লাহোরে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে পাকিস্তান বোর্ডকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে বিশাল আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি পাকিস্তানের ওপর নির্বাসনের খাঁড়া নেমে আসতে পারে। এছাড়া সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর চাপও রয়েছে, কারণ এই ম্যাচ না হলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা।

ভারত-ম্যাচ খেলার বিনিময়ে পাকিস্তান যে তিনটি শর্ত রেখেছে, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠছে:

‘এনডিটিভি’-র দাবি: পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বার্থে তিনটি শর্ত দিয়েছে। বাংলাদেশের আইসিসি লভ্যাংশ বাড়ানো, বিশ্বকাপে না খেললেও তাদের ‘পার্টিসিপেশন ফি’ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

‘ক্রিকবাজ’-এর দাবি: পিসিবি নিজের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। তারা লভ্যাংশ বাড়ানো, ২০০৮ সাল থেকে বন্ধ থাকা ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালু করা এবং মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সৌজন্যমূলক করমর্দনে বাধ্য করার মতো শর্ত রেখেছে।

বাস্তবতার নিরিখে পাকিস্তানের দাবি

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো মানা আইসিসি-র পক্ষে সহজ হলেও, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা করমর্দনের মতো দাবিগুলো মানা কার্যত অসম্ভব। কারণ, ভারত-পাক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক সরাসরি ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে আইসিসি-র হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই বললেই চলে।

শুরুতে পাকিস্তান বোর্ড অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেও, আর্থিক ক্ষতি ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের পাল্টা হুঁশিয়ারির মুখে কিছুটা সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন মহসিন নকভিরা। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রী শরিফের সবুজ সংকেত নিয়ে নকভি শেষ পর্যন্ত কী ঘোষণা করেন। ভারত-পাক ম্যাচের ভবিষ্যৎ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *