০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘কার মুখ দেখলাম’ থেকে ‘স্মিত হাসি’! বিয়েবাড়ির আমেজে কি গলল কল্যাণ-মহুয়ার বরফ?
পশ্চিমবঙ্গ

‘কার মুখ দেখলাম’ থেকে ‘স্মিত হাসি’! বিয়েবাড়ির আমেজে কি গলল কল্যাণ-মহুয়ার বরফ?

Share
Share

কলকাতা: “রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না”। এই আপ্তবাক্যটি আরও একবার সত্যি হতে চলেছে কি? গত রবিবার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়েবাড়ির আসর অন্তত তেমনই এক রসায়নের সাক্ষী থাকল। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, যাঁদের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কের কথা বাংলার বাচ্চাকাচ্চাও হয়তো জানে, সেই তাঁদেরই দেখা গেল একই ফ্রেমের মধ্যে, বেশ খোশমেজাজে!

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। গত বছর অগস্টে দিল্লির রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে দলের নতুন কার্যালয়ের সামনে মহুয়া মৈত্রকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে কল্যাণবাবু সটান বলে দিয়েছিলেন, “কার মুখ দেখলাম, আজ দিনটাই গেল…!” শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যেই তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি নারীবিদ্বেষী নন। কিন্তু, তাঁর ঘৃণা কেবল একজনের প্রতি — আর সেই নামটা মহুয়া মৈত্র! পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি মহুয়াও। কসবা কলেজের একটি ঘটনায় কল্যাণ-মদনের মন্তব্য টেনে তাঁদের ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা দিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

কিন্তু, রবিবার রাতে বিয়ের আসরে ছবিটা ছিল একদম আলাদা। সেখানে তোলা প্রায় ৯০ শতাংশ ছবিতেই দেখা যাচ্ছে কল্যাণের পাশেই রয়েছেন মহুয়া। কোথায় সেই মুখ না দেখার পণ? বরং দেখা গেল, কোথাও একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসছেন, কোথাও বা চলল হালকা মেজাজে গালগল্প। এমনকী, অনুষ্ঠান থেকে যাওয়ার পথেও একে অপরের দিকে ফিরে তাকাতে দেখা গেল তাঁদের। এই ‘অপরিচিত’ কল্যাণ-মহুয়া জুটিকে দেখে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরেও এখন জোর চর্চা।

রাজনৈতিক মহলে রসিকতা করে বলা হচ্ছে, সাগরিকার মেয়ের বিয়ে কি তবে তৃণমূলের এই দুই ‘বাঘা’ সাংসদের মন কষাকষিও মিটিয়ে দিল? যে মুখ দেখলে দিন খারাপ হত, সেই মুখেই এখন বসন্তের হাসি! ঝগড়া-ঝাঁটি দূরে সরিয়ে এই ‘আইস ব্রেকিং’ মুহূর্ত এখন নেটপাড়াতেও সুপারহিট। তবে, এই বন্ধুত্ব কেবল বিয়েবাড়ির মেনু আর সেলফি অবধিই সীমাবদ্ধ, নাকি দিল্লিতে সংসদীয় চত্বরেও এই সৌজন্য বজায় থাকবে — সেটাই এখন দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *