০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ জনরোষের চাপে মাথা নত? বৃদ্ধকে ‘খুন’ করে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করল দল
পশ্চিমবঙ্গ

জনরোষের চাপে মাথা নত? বৃদ্ধকে ‘খুন’ করে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করল দল

Share
Share

ব্যারাকপুর: ৮১ বছরের বৃদ্ধের পেটে সজোরে লাথি, আর তার জেরেই মর্মান্তিক মৃত্যু! ব্যারাকপুরের মণিরামপুরে বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হলো উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা আইনজীবী রবীন ভট্টাচার্যকে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং এলাকায় তৈরি হওয়া তীব্র জনরোষ আঁচ করতে পেরে তড়িঘড়ি অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস।

মণিরামপুর এলাকার বাসিন্দা তুলসীচরণ অধিকারিক এলাকার একটি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, এই ‘অপরাধেই’ রবিবার তাঁর বাড়িতে চড়াও হন কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্য। অভিযোগকারী বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলের সঙ্গে বিতণ্ডা চলাকালীনই মেজাজ হারান কাউন্সিলর। বৃদ্ধ তুলসীবাবুকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাঁর পেটে সজোরে লাথি মারেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই আঘাতের পরই লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, প্রচণ্ড আঘাতেই হার্টফেল করে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

ঘটনার পর এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিলে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে প্রথমে আটক করে ব্যারাকপুর থানার পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, সামনেই নির্বাচন, তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে শাসকদল।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যারাকপুরের বিধায়ক পার্থ ভৌমিক অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয় ঘটনা। নিরীহ মানুষের ওপর এমন আক্রমণ দল কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। অভিযুক্ত রবীন ভট্টাচার্যকে আগামী ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হলো।”

অভিযুক্তকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও ক্ষোভ কমছে না ব্যারাকপুরে। বিরোধীদের দাবি, পুলিশের মদতেই এলাকায় এই ধরনের দাদাগিরি চালাতেন কাউন্সিলর। তৃণমূলের এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে নিছকই ‘লোক দেখানো’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, গ্রেফতারি নিশ্চিত জেনে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতেই তৃণমূল এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আপাতত শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে কাউন্সিলর রবীনের। একজন আইনজীবীর পরিচয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আইনের রক্ষক ভক্ষক হয়ে উঠলেন, তা নিয়েই এখন ধিক্কার জানাচ্ছে গোটা ব্যারাকপুর।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *