কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এমনিতেই নাজেহাল দশা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। তার মধ্যেই এবার আইসিডিএস (ICDS) সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হলো সল্টলেকের বিকাশ ভবনের লাগোয়া চত্বর। ২০১৯ সালে পরীক্ষা দিয়েও কেন মেলেনি স্বচ্ছ নিয়োগ? কেন মানা হচ্ছে না আদালতের নির্দেশ? এইসমস্ত প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েকশো আইসিডিএস কর্মী।
আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালে প্রমোশনাল পদের জন্য তাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে এবং নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দফতর। এমনকী অভিযোগ উঠেছে, উচ্চ আদালতের রায়ও কার্যত অগ্রাহ্য করছে এই বিভাগ।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা বছরের পর বছর রাজপথে নামছি। কিন্তু, এই সরকার কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। যোগ্যতার কোনও দাম নেই এই রাজ্যে।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইসিডিএস কর্মীদের এই বিক্ষোভ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই আর এক নগ্ন রূপ। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়োগ নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের এই টালবাহানা সরকারের স্বচ্ছতাকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার যে গুরুতর অভিযোগ কর্মীরা তুলছেন, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে চরম আশঙ্কাজনক। বারবার ‘উন্নয়নের’ খতিয়ান দিলেও, হকের চাকরির দাবিতে কেন কর্মীদের বারবার রোদে পুড়ে রাস্তায় বসে থাকতে হচ্ছে, সেই উত্তর দিতে ব্যর্থ নবান্ন।
এদিন বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, অবিলম্বে দাবিদাওয়া পূরণ না হলে এবং স্বচ্ছ প্যানেল প্রকাশ না করলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন আইসিডিএস কর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন যদি দ্রুত সদর্থক ভূমিকা না নেয়, তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ক্ষোভ রাজ্যের শাসক শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a comment