০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব ২০২৭ নয়, ২০২৬-এই তাইওয়ান অভিযান? শি জিনপিঙের ‘ডেডলাইন’ ঘিরে কাঁপছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা
বিশ্ব

২০২৭ নয়, ২০২৬-এই তাইওয়ান অভিযান? শি জিনপিঙের ‘ডেডলাইন’ ঘিরে কাঁপছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা

Share
Share

দীর্ঘদিনের জল্পনা কি তবে এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি ২০২৬ সালেই তাইওয়ান বা সাবেক ফরমোজ়া দ্বীপটি কব্জা করতে সামরিক অভিযানে নামতে পারে শি জিনপিঙের নেতৃত্বাধীন চিন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং পেন্টাগনের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসগুলিকে ছাপিয়ে কেন এ বছরকেই ‘টার্গেট’ করছে বেজিং, তার নেপথ্যে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর ৪টি কারণ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জিনপিঙের এই সম্ভাব্য অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জটিল সমীকরণ:

১. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মাওয়ের ছায়া: ১৯৪৯ সাল থেকে তিব্বত দখল এবং ভারতের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করে মাও জে দং চিনের অবিসংবাদিত নেতা হয়েছিলেন। জিনপিং নিজেকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান। ২০২৭ সালের অক্টোবরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) জাতীয় কংগ্রেস। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান পদ ধরে রাখতে বা নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে তার আগেই তাইওয়ান বিজয় সেরে ফেলতে চান শি।

২. ট্রাম্পের ‘নরম’ অবস্থান ও নেটো-র ফাটল: ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে আমেরিকার সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ব্যস্ত ট্রাম্প এখন চিনের প্রতি কিছুটা ‘নরমপন্থী’ মনোভাব দেখাচ্ছেন। শি জিনপিং মনে করছেন, নেটো দেশগুলি এই মুহূর্তে আমেরিকার হয়ে চিনের মতো মহাশক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না।

৩. আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন: এ বছরের নভেম্বরে আমেরিকায় মধ্যবর্তী (Mid-term) ভোট। সেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ডেমোক্র্যাটরা তাইওয়ান রক্ষায় আরও কঠোর হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে নভেম্বরের আগেই ঝটিতি অভিযান চালিয়ে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে তাইওয়ান কব্জা করার ছক কষছে পিএলএ (PLA)।

৪. ভেনেজ়ুয়েলা ইস্যু ও আন্তর্জাতিক যুক্তি: চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন অভিযানের উদাহরণ দিয়ে চিন আন্তর্জাতিক মহলে নিজের আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

চিন আক্রমণ করলে যে একতরফা জয় পাবে, তা বলা কঠিন। কারণ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন, তাইওয়ান দখল হতে দেখলে টোকিয়ো চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সের সাথে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়ের ‘অ্যাকুইজ়িশন এবং ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ সই করেছে জাপান। চেন্নাই-ভ্লাদিভস্তক মেরিটাইম করিডরের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ান চিনের কব্জায় গেলে ভারতের এই বাণিজ্য পথ সংকটে পড়বে। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ করে চিনকে চাপে রাখার ‘ট্রাম্প-কার্ড’ থাকতে পারে নয়াদিল্লির হাতে।

ট্রাম্পের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকাকালীন এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্থিরতার সুযোগে জিনপিং তাঁর ‘ষড়যন্ত্রের’ জাল গুটিয়ে আনবেন কি না, সেটাই এখন দেখার। বিশ্ব রাজনীতিতে ২০২৬ সাল সম্ভবত এক বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *