০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ প্রেমদিবসে মমতার ‘নজিরবিহীন’ শুভেচ্ছা: নেপথ্যে কি ভোট-রাজনীতি? খোঁচা বিজেপির, আমন্ত্রণ বামেদের
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেমদিবসে মমতার ‘নজিরবিহীন’ শুভেচ্ছা: নেপথ্যে কি ভোট-রাজনীতি? খোঁচা বিজেপির, আমন্ত্রণ বামেদের

Share
Share

কলকাতা: আগে কখনও যা দেখা যায়নি, শনিবার তাই দেখল বাংলার রাজনৈতিক মহল। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমদিবসে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখলেন, ‘হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে, ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক।’ রাজনীতিক বা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতাকে এর আগে কখনও এই বিশেষ দিনে এমন পোস্ট করতে দেখা যায়নি। স্বভাবতই, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁর এই বার্তার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

মমতা তাঁর পোস্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের পঙক্তি উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।’ তবে, শুধু শুভেচ্ছা জানানোই নয়, তিনি ব্যাখ্যা করেছেন – ভালোবাসা জাত, ধর্ম ও বর্ণের বেড়াজাল মানে না। তিনি যে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তার মূলে রয়েছে ‘অকৃত্রিম ভালোবাসা’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে একদিকে তিনি বিজেপির ‘রক্ষণশীলতা’কে যেমন আক্রমণ করেছেন, তেমনই তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় কড়া ভাষায় বলেন, “ভারতীয়দের কাছে ভালোবাসা ৩৬৫ দিনের। আলাদা করে ১৪ ফেব্রুয়ারির কোনও গুরুত্ব নেই।” তিনি আরও খোঁচা দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির উদ্দেশে এই ভালোবাসা জাহির করেছেন কিনা, তা বলা মুশকিল!”

বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বিষয়টি শুনে হেসেই ফেলেন। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “এসএফআই রাসবিহারীতে ‘ভালোবাসার ইস্তাহার’ নামে একটি স্টল খুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সময় পেলে সেখান থেকে ঘুরে যেতে পারেন।”

তৃণমূল সূত্রের খবর, সম্প্রতি সমকামী তরুণীদের বিবাহে সংবর্ধনা দেওয়া বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করার যে ধারা তৃণমূল শুরু করেছে, মমতার এই পোস্ট তারই অঙ্গ। গেরুয়া শিবিরের কট্টরপন্থীদের একাংশ যখন পার্কে যুগলদের হেনস্থা করা বা পাশ্চাত্য সংস্কৃতি বলে একে বিরোধিতা করছে, তখন মমতা ‘ভালোবাসার স্বাধীনতা’র পক্ষে দাঁড়িয়ে তরুণ ভোটব্যাঙ্ককে বার্তা দিতে চেয়েছেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *