০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কূটনীতি দিল্লির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নাকি ঢাকার ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’? শপথের পর তারেকের প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
কূটনীতিবাংলাদেশভারতবর্ষ

দিল্লির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নাকি ঢাকার ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’? শপথের পর তারেকের প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

Share
Share

ঢাকা ও নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ সময় পর এক ‘পুরুষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর এই শপথকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে দাবার চাল। একদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আমন্ত্রণ নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, অন্যদিকে বেজিং ও ইসলামাবাদের আমন্ত্রণও টেবিলে মজুত। প্রশ্ন এখন একটাই — প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমান প্রথম পা রাখবেন কোন দেশের মাটিতে?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে যে শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটাতে মরিয়া নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক। জানা যাচ্ছে, তারেকের শপথে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিকে ঢাকা পাঠাচ্ছে দিল্লি। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশের নির্বাচনে তারেক ও তাঁর দলের দুর্দান্ত কামব্যাকের পরই সেদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে প্রণয় ভার্মার মাধ্যমে শুভেচ্ছা পাঠানো —  মোদী সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে তারা বিএনপির নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত সুসম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, বরং উপ-মহাদেশের নিরাপত্তা ও শান্তির চাবিকাঠি। এক্ষেত্রে ভারতের মূল স্বার্থগুলি হল – প্রথমত, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। বিএনপি সরকারের আমলেও যাতে সেদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আশ্রয় না পায়, সেটিই দিল্লির প্রাথমিক লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। ৩০ বছরের এই চুক্তির পুনর্নবীকরণ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য এক বিশাল পরীক্ষা। তারেক রহমান দিল্লি এলে এই বিষয়ে বরফ গলার সম্ভাবনা প্রবল। তৃতীয়ত, গত কয়েক বছরে ভারতের বিনিয়োগ এবং ট্রানজিট সুবিধা যে অবস্থায় ছিল, তা বজায় রাখা এবং আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দিল্লির অর্থনৈতিক স্বার্থের অনুকূল। চতুর্থত, বেজিং ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ যাতে চিনের ঋণের জালে বা সামরিক বলয়ে বেশি ঝুঁকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ভারত শুরু থেকেই সক্রিয় হতে চাইছে।

তারেক রহমান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর বিদেশনীতির মূল মন্ত্র— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে না থেকে একটি ‘স্বাধীন ও সাবালক’ বিদেশনীতি অনুসরণ করতে চান। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যে কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে (কাকে আগে প্রাধান্য দেবেন), তা এড়াতে তারেক রহমান প্রথম সফরে কোনও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, ইউরোপ বা আমেরিকাকে বেছে নিতে পারেন। একে বলা হচ্ছে ‘ব্যালেন্সিং ডিপ্লোম্যাসি’।

ভারতের বিদেশ সচিবের ঢাকা সফর এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া প্রমাণ করে যে, নয়াদিল্লি অতীতের জড়তা কাটিয়ে নতুন শুরুর জন্য প্রস্তুত। তবে তারেক রহমান প্রথমে নয়াদিল্লি যাবেন নাকি বেজিং-ইসলামাবাদ, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী পাঁচ বছর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *