পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়া বাজারে বিজেপির ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ফের রাজ্য সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে চা চক্রে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারেন তিনি। এদিন দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি ঘিরে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।
সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপির গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মানুষ আর ভয় আর লুঠতরাজের মধ্যে বাঁচতে চায় না। রাজ্যের মানুষ এখন এই সরকারের পরিবর্তন চাইছে। এবারের ভোট আসলে পরিবর্তনের ভোট।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কমিশনারকে ‘মহম্মদ বিন তুঘলক’ বলা প্রসঙ্গে পালটা কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা তো জানতাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মহম্মদ বিন তুঘলক। তিনি এখন যে শাসন চালাচ্ছেন, তা ঠিক তুঘলকি শাসনের মতোই। ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, হার নিশ্চিত জেনে ওঁরা উলটো-পালটা কথা বলছেন।” এদিন রাজ্য সরকারের ইদ উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকেও পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেন তিনি।
ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে বড় দাবি করে দিলীপ ঘোষ জানান, ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “এখনও প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষের ভাগ্য ঝুলে আছে। আরও ৫০ লক্ষ মানুষ সঠিক নথিপত্র দেখাতে পারবে না। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রায় এক কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।”
সামগ্রিকভাবে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে যেমন শাসকদল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনমানসে প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে বিরোধী শিবির ভোটার তালিকার অসঙ্গতি এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকার এই জটিলতা এবং রাজনৈতিক তরজা ব্যালট বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment