০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় বোমাতঙ্ক, জোরদার তল্লাশি
পশ্চিমবঙ্গ

রাজ্যজুড়ে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় বোমাতঙ্ক, জোরদার তল্লাশি

Share
Share

নিজস্ব প্রতিনিধি: হাতে মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা সময়! তারপরই নাকি একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে উড়ে যাবে আদালত চত্বর! মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই ইমেল পাঠিয়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে নাশকতার হুমকি দিল অজ্ঞাতপরিচয় কোনও দুষ্কৃতী বা দুষ্কৃতীরা। ওই সমস্ত ইমেলে দাবি করা হয়, আদালত চত্বরে আরডিএক্স রাখা আছে। যা দুপুর ১টা নাগাদ বিস্ফোরিত হবে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নজিরবিহীন আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায় বাংলার বিচারালয়গুলিতে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারক দেবপ্রসাদ নাথের কাছে প্রথম এই হুমকি ইমেল আসে। সেই সময় একটি জামিনের মামলার শুনানি চলছিল। বিচারক নিজে আইনজীবীদের এই মেলের কথা জানালে মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। আতঙ্কে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

পশ্চিম বর্ধমানের রেশ কাটতে না কাটতেই একই ধরনের খবর আসতে থাকে কলকাতার নগর ও দায়রা আদালত (City Sessions Court), ব্যাঙ্কশাল কোর্ট এবং দুর্গাপুর আদালত থেকে। হুগলির চুঁচুড়া জেলা আদালতের বিচারকের কাছেও একই হুমকি ইমেল পৌঁছয়। সেখানে সাফ লেখা ছিল, ‘খানিক পরেই আরডিএক্স বিস্ফোরণ ঘটবে’!

হুমকি ইমেল পাওয়ামাত্রই প্রতিটি আদালত চত্বর তড়িঘড়ি খালি করে দেয় পুলিশ। কলকাতার ব্যাঙ্কশাল ও নগর দায়রা আদালতে ডগ স্কোয়াড ও বম্ব স্কোয়াড নিয়ে চিরুনিতল্লাশি শুরু হয়। চুঁচুড়া আদালতে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে তল্লাশি চালায়। দুর্গাপুর ও আসানসোলেও পুলিশি ঘেরাটোপে চলে তল্লাশি অভিযান।

যদিও, শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো ইমেল পাঠিয়ে জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। চন্দননগর এবং কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল ইতিমধ্যেই এই ইমেলের উৎস বা আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করার কাজ শুরু করেছে।

কে বা কারা এই পরিকল্পিত ‘হুমকি-ইমেল’ পাঠিয়ে বিচারব্যবস্থাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করল, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার ও জেলা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *