০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ নিট দেওয়ার জন্য চাপ? বাবাকে গুলি করে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করল গুণধর ছেলে! লখনউয়ে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড
ভারতবর্ষভারতবর্ষ

নিট দেওয়ার জন্য চাপ? বাবাকে গুলি করে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করল গুণধর ছেলে! লখনউয়ে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড

Share
Share

লখনউ: বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে জীবনে সফল হোক। বসুক নিট (NEET) পরীক্ষায়। কিন্তু, ছেলের সেই পথে একেবারেই অনীহা। এই টানাপোড়েন আর প্রত্যাশার চাপ যে এমন নৃশংস রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিংহ। গত শুক্রবার বিকেলে এক অশান্তির জেরে বাড়ির লাইসেন্সড রাইফেল দিয়ে গুলি করে বাবাকে খুন করার পর তাঁর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার অভিযোগ উঠল ছেলে অক্ষত সিংহের বিরুদ্ধে।

[TECHTARANGA-POST:6745]

জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার থেকেই ‘নিখোঁজ’ ছিলেন মানবেন্দ্র সিং। এমনকী, আসল ঘটনার মোড় ঘোরাতে নিজেই থানায় গিয়ে বাবার নামে নিখোঁজ ডায়ারি করে আসেন অক্ষত! তদন্তে নেমে পুলিশ যখন তল্লাশি শুরু করে, তখন বাড়ির একতলার একটি তালাবন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি নীল রঙের ড্রাম। সেই ড্রাম খুলতেই আঁতকে ওঠেন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, মানবেন্দ্রর দেহের নিম্নাংশ সেখানে ভরা রয়েছে! কিন্তু, উধাও শরীরের উপরিভাগ!

[TECHTARANGA-POST:6738]

দেহ উদ্ধারের পর অক্ষত কান্নায় ভেঙে পড়ার নাটক করেন এবং দাবি করেন যে তাঁর বাবা নাকি আত্মঘাতী হয়েছেন! কিন্তু, তাঁর আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে পুলিশ তাঁকে আটক করে জেরা শুরু করলে বেরিয়ে আসে হাড়হিম করা সত্য।পুলিশি জেরায় অক্ষত স্বীকার করেছেন, বাবার জোরাজুরিতে অতিষ্ঠ হয়েই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। ঘটনার দিন বিকেলে মানবেন্দ্র যখন ব্যবসার কাজে দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর নিজের লাইসেন্সড রাইফেল দিয়েই তাঁর মাথায় গুলি করেন অক্ষত। গুলির শব্দে অক্ষতের বোন ছুটে এলে তাঁকে খুনের হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়।

[TECHTARANGA-POST:6744]

এরপরই শুরু হয় পৈশাচিকতা! চারতলা থেকে বাবার দেহ টেনে হিঁচড়ে একতলায় নিয়ে আসেন অক্ষত। দেহের উপরিভাগ কেটে টুকরো টুকরো করে প্যাকেটবন্দি করেন। তারপর পাশের গ্রাম সদারুনাতে গিয়ে সেই অংশগুলি ফেলে দিয়ে আসেন। দেহের বাকি অংশ – অর্থাৎ কোমর থেকে পা পর্যন্ত অংশটি একটি নীল ড্রামে ভরে ঘরেই লুকিয়ে রাখেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০ লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, ড্রামে রাখা দেহাংশগুলি পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের।

[TECHTARANGA-POST:6741]

জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে অক্ষতের মায়ের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে বাবা ও বোনের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। বাণিজ্য বিভাগে পড়াশোনা করলেও দ্বাদশ শ্রেণিতে তাঁর বিষয় ছিল জীববিদ্যা। তাই, তাঁর বাবা চাইতেন তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে জীবনে সফল হোন। এই নিয়ে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্যই শেষ পর্যন্ত খুনের পর্যবসিত হয়!

[TECHTARANGA-POST:6742]

পুলিশ ইতিমধ্যেই অক্ষতকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বাবার দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় লখনউয়ের ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *