০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home লাইফস্টাইল রঙের উৎসবে ফিকে না হয় চোখের আলো: দোল পূর্ণিমায় সাবধানতা ও সুরক্ষার গাইড
লাইফস্টাইললাইফস্টাইল

রঙের উৎসবে ফিকে না হয় চোখের আলো: দোল পূর্ণিমায় সাবধানতা ও সুরক্ষার গাইড

Share
Share

বসন্তের রঙে মেতে ওঠার দিন দোল পূর্ণিমা। কিন্তু এই আনন্দের উৎসবেই প্রতি বছর কলকাতা ও শহরতলির চক্ষু হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমে যায় শত শত রোগীর। লাল টকটকে চোখ, প্রচণ্ড জ্বালা আর কর্নিয়ার ক্ষত নিয়ে আসা এই রোগীদের সংখ্যা উৎসবের দিনে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসতর্কতা আর রাসায়নিক রঙের ব্যবহার এই বিপদের মূল কারণ।

[TECHTARANGA-POST:6854]

রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষ

বর্তমানে বাজারে পাওয়া অধিকাংশ রঙ ও আবিরে মিশে থাকছে মারাত্মক সব রাসায়নিক যৌগ। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে:

[TECHTARANGA-POST:6837]

লাল রঙ: এতে থাকা ‘মার্কারি’ যৌগ চোখ ফুলিয়ে দেয়।

সবুজ রঙ: ‘কপার সালফেট’ থেকে চোখে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।

হলুদ রঙ: এতে থাকা ‘লেড’ বা সিসা চোখের সূক্ষ্ম স্নায়ু নষ্ট করতে পারে।

নীল রঙ: ‘প্রাশিয়ান ব্লু’ চোখে খসখসে বা কড়কড়ে ভাব তৈরি করে।

এমনকি শুকনো আবিরের ক্ষারধর্মী উপাদান চোখের কর্নিয়ায় গভীর ক্ষত (কর্নিয়াল অ্যাব্রেশন) সৃষ্টি করে, যা শিশুদের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

রঙভরা বেলুন: এক ‘অদৃশ্য’ আতঙ্ক

দোলের দিন ছাদ বা বারান্দা থেকে আচমকা ছুড়ে দেওয়া রঙভরা বেলুন চোখের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। এর আঘাতে ‘ব্লান্ট ট্রমা’ হতে পারে, যা চোখের পাতা, কর্নিয়া এমনকি রেটিনাকেও চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের দুর্ঘটনা উৎসবের আনন্দকে মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত করে।

সুরক্ষার কবচ: কী করবেন আর কী করবেন না?

উৎসবের হাসি বজায় রাখতে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিচ্ছেন:

১. চশমার ব্যবহার: রঙ খেলতে বেরোনোর সময় সানগ্লাস বা বড় ফ্রেমের চশমা পরুন। এটি সরাসরি রঙের ঝাপটা থেকে চোখকে বাঁচাবে।

২. প্রাকৃতিক রঙ: রাসায়নিক রঙের বদলে ফুলের পাপড়ি বা রান্নার হলুদ দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করুন।

৩. চোখ রগড়াবেন না: চোখে রঙ ঢুকে গেলে কখনওই হাত দিয়ে ঘষবেন না। এতে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪. প্রাথমিক চিকিৎসা: পরিষ্কার ঠান্ডা বা ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে চোখ ধুয়ে নিন। জ্বালা বা ব্যথা না কমলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছোটদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

অভিভাবকদের দায়িত্ব এখানে সবচেয়ে বেশি। শিশুদের একা রঙ খেলতে না পাঠানোই ভালো। তাদের হাতে কোনোভাবেই রঙভরা বেলুন দেবেন না। কেউ পিছন থেকে রঙ মাখাতে এলে দ্রুত চোখ বন্ধ করে নেওয়া এবং মুখে জল ছিটিয়ে দেওয়ার কৌশল তাদের আগেভাগেই শিখিয়ে রাখুন।

উপসংহার:

উৎসব মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের প্রথম শর্ত হোক সচেতনতা। রঙ নয়, বরং চোখের সুরক্ষা আগে ভেবে দোল খেলুন। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য সতর্কতাটুকুই পারে উৎসবের রঙকে আজীবন অমলিন রাখতে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *