নয়াদিল্লি: অবশেষে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করল ভারত। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পাঁচদিনের মাথায় তেহরানের সঙ্গে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। একই দিনে দিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে গিয়ে সশরীরে শোকজ্ঞাপন করেছেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রীও। পশ্চিম এশিয়ার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে ভারতের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
[TECHTARANGA-POST:7034]
গত শনিবার ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যু হওয়ার পর থেকে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বললেও ইরানের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার জয়শঙ্কর নিজেই সমাজমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, তিনি আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে, তাঁদের আলোচনার বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ইরান ছাড়াও ওমানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও এদিন কথা বলেছেন জয়শঙ্কর।
এদিন সকালেই দিল্লির ইরানি দূতাবাসে গিয়েছিলেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী। সেখানে তিনি ভারতের পক্ষে শোকপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন। খামেনেইয়ের প্রয়াণে ভারত সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা এই প্রথম প্রকাশ্যে এল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচদিনের এই ‘কৌশলগত নীরবতা’ কাটিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিল, বন্ধু ইজরায়েলের পাশে থাকলেও ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিন্ন করা দিল্লির উদ্দেশ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজরায়েল সফরের পরপরই ইরানে এই হামলা হওয়ায় বিরোধীরা ভারতের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। কেন খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ভারত শোকপ্রকাশ করছে না, তা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। বৃহস্পতিবার জয়শঙ্কর ও মিস্রীর এই জোড়া পদক্ষেপ সেই বিতর্কে ইতি টানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আমেরিকা বা ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারত এখনও কোনো কড়া বিবৃতি দেয়নি। তবে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করল সাউথ ব্লক।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে, তখন ভারতের এই ‘শান্তি ও সহমর্মিতার’ বার্তা বিশ্বমঞ্চে দিল্লির অবস্থানকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।
Leave a comment