শিলিগুড়ি: প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে কার্যত একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি যেমন অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন, তেমনই আদিবাসীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর মন্তব্য, “জানি না, মমতাদির আমার উপর কেন রাগ!”
[TECHTARANGA-POST:7088]
এদিন বাগডোগরা এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দর্শকাসনের অধিকাংশ চেয়ারই খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা দেখে রাষ্ট্রপতি হতাশ গলায় বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্স, দেখে মনেই হচ্ছে না!” তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, সেখানে অন্তত ৫ লক্ষ মানুষ অনায়াসে জমায়েত করতে পারতেন।
এরপরই তিনি বিধাননগরের সেই এলাকায় যান, যেখানে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজ্য প্রশাসন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। সেখানে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না আমার ওপর কী রাগ! যাই হোক, আমার কোনও অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই। উনিও ভালো থাকুন, আপনারাও ভালো থাকুন।”
অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নের খতিয়ান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, সাঁওতাল বা আদিবাসী সমাজের মানুষরা আদৌ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন নীতির উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। রাজ্যের অব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিও জানান।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানেরমঞ্চে তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধিকে না দেখা যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রোমা রেশমি এক্কা পাল্টা দাবি করেন, “সঠিক যোগাযোগের অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। পুরো মঞ্চ দখল করে রেখেছিলেন বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কেরা।”
Leave a comment