কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬–এর আগে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই আজ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল সমাবেশ করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই সভার প্রধান আকর্ষণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে ঘিরেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
[TECHTARANGA-POST:7285]
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আজকের সভায় প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেবেন, তেমনি উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণাও করবেন। সভামঞ্চ থেকেই প্রায় ১৮,৬৮০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করার কথা রয়েছে তাঁর।
আজকের কর্মসূচিতে প্রথমে একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান হবে। সেখানে রেল ও সড়ক সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করা হবে। এরপর ব্রিগেড ময়দানে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সভাস্থলে ৪০ হাজারের বেশি চেয়ার বসানো হয়েছে এবং প্রায় দু’লক্ষ মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছে ৩৫টি বড় স্ক্রিন, যাতে দূরে থাকা সমর্থকরাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেখতে পারেন।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা সকাল থেকেই ট্রেন ও বাসে করে কলকাতায় পৌঁছাচ্ছেন। হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিল করে অনেকেই ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সমর্থকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেছে দল। জানা গেছে, মেনুতে রয়েছে ডাল ও ভাত।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে কলকাতা পুলিশ ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্রিগেড সমাবেশ ঘিরে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সভামঞ্চটিও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। মঞ্চের মাঝখানে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালী মন্দিরের আদলে একটি প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহারের রাজবাড়ি, বাঁকুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া এবং উত্তরবঙ্গের জঙ্গলের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে মঞ্চসজ্জায়, যাতে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ ফুটে ওঠে।
[TECHTARANGA-POST:7281]
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, কেন্দ্রের মোদী সরকার “বিরোধী-বাংলা” মনোভাব নিয়ে কাজ করে এবং রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখে। যদিও বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, আজকের সভায় প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ উপস্থিত থাকবেন এবং এই সমাবেশ থেকেই বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হবে।
এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী একটি বিজেপি কর্মী বোঝাই বাসে হামলার অভিযোগও উঠেছে। বিজেপির দাবি, বাসটির পিছনের কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্রিগেড সমাবেশ বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সভা থেকেই বাংলার ভোটযুদ্ধের মূল বার্তা দিতে পারেন।
Leave a comment