০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ কলকাতা ভোটার তালিকা থেকে বাদ কয়েক হাজার মতুয়া: ভোট ঘোষণার পর তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বনগাঁয়
কলকাতাকূটনীতিপশ্চিমবঙ্গভারতবর্ষ

ভোটার তালিকা থেকে বাদ কয়েক হাজার মতুয়া: ভোট ঘোষণার পর তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বনগাঁয়

Share
ভোটার তালিকা থেকে বাদ কয়েক হাজার মতুয়া: ভোট ঘোষণার পর তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বনগাঁয়
ছবি: সংগৃহীত
Share

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বনগাঁ মহকুমার মতুয়া উদ্বাস্তু শিবিরে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগের ছায়া। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু এই ঘোষণার পর সবথেকে বেশি হতাশ সেইসব মতুয়া ভোটাররা, যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বা ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে। 

[TECHTARANGA-POST:7341]

বনগাঁ মহকুমায় অন্তত ৩৬ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের নাম ঝুলে রয়েছে। অনেকেই আশা করেছিলেন ভোটের আগে এর কোনো সুরাহা হবে, কিন্তু দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কার্যত ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন।

[TECHTARANGA-POST:7340]

উদ্বাস্তু মতুয়া মিলন হাওলাদারের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, গত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটেও তাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এবার রহস্যজনকভাবে তালিকা থেকে নাম উধাও। মতুয়া গোসাঁই মনোরঞ্জন ব্যাপারীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম তোলার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ক্ষুব্ধ মতুয়া ভক্তদের একাংশ বিজেপি নেতাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, “সবার নাম না ওঠা পর্যন্ত ভোট হবে না” বলে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা আদতে ‘মিথ্যাচার’। তাঁদের মতে, নাগরিকত্বের নামে ভাঁওতা দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:7338]

এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে জানিয়েছেন, এটি মতুয়াদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কথায় মিলছে ভিন্ন সুর। তাঁর দাবি, বিবেচনাধীন সবার নাম হয়তো উঠবে না, তাঁদের সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়ে আগামী দিনে ভোট দিতে হবে। ঠিক এই জায়গাতেই বারবার সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি, উদ্বাস্তুদের নতুন করে সিএএ-তে আবেদনের অর্থই হলো নিজেদের অ-নাগরিক বলে মেনে নেওয়া, যা আসলে বিজেপির পাতা একটা ফাঁদ। ভোটের মুখে এই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা বনগাঁর রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও তপ্ত করে তুলবে, তা নিশ্চিত।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *