০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home মধ্যপ্রাচ্য ইরানের যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান! ট্রাম্পের ‘১৫ দফা’ প্রস্তাব তেহরানে পাঠালেন শাহবাজ
মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান! ট্রাম্পের ‘১৫ দফা’ প্রস্তাব তেহরানে পাঠালেন শাহবাজ

Share
Share

ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল নেভাতে এবার বড়সড় কূটনৈতিক চাল চালল ভারতের চিরশত্রু পড়শি পাকিস্তান। যুযুধান দুই দেশ – আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনও আলোচনা না হলেও, ‘দূত’ হিসাবে পর্দার আড়ালে দৌত্য শুরু করেছে ইসলামাবাদ! খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই দৌত্যের অন্যতম লক্ষ্য হল, পাকিস্তানের মাটিতেই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মুখোমুখি বসিয়ে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান করা! আর, সেটা করতে পারলে নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের প্রতিবেশীর কদর বাড়বে।

[TECHTARANGA-POST:7548]

সংঘাত থামাতে ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন করতে চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন শাহবাজ শরিফ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই পোস্টটিকে ‘রিপোস্ট’ করেছেন। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’-এর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সায় নিয়েই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতা করছে। গত রবিবার পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হওয়ার পর থেকেই এই তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার শাহবাজ ফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইম্‌স’ জানাচ্ছে, যুদ্ধ থামানোর পূর্বশর্ত হিসাবে আমেরিকা যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা মূলত ট্রাম্পেরই মস্তিষ্কপ্রসূত।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, যদি পাকিস্তানের মাটিতে এই বৈঠক সফল হয়, তবে আমেরিকার প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স, স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, তেহরানের তরফে থাকতে পারেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। যদিও, পেন্টাগন একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ২০০০ সৈন্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই সক্রিয় দৌত্য ভারতের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হতে পারে। মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্প ও মোদীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব বিশ্ববিদিত হলেও, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারেনি।

এই প্রেক্ষাপটে যদি পাকিস্তান সফলভাবে এই দুই যুযুধান দেশকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের গ্রহণযোগ্যতা একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে পাক সেনাপ্রধানের সরাসরি যোগাযোগ ভারতের জন্য চিন্তার বিষয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দিলেও পশ্চিম এশিয়ায় ভারত আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে। মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্ব সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প এই আলোচনার জন্য ভারতকে বেছে না নিয়ে পাকিস্তানকে বাছলেন, তা নিয়ে দিল্লির সাউথ ব্লকে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

প্রসঙ্গত, ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। যদি মার্কিন হস্তক্ষেপে সেখান থেকে ইতিমধ্যেই দূরে সরতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসাবে উঠে এলে ইরানের উপর ইসলামাবাদের প্রভাব বাড়বে। যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থে আঘাত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ‘১৫ দফা’ প্রস্তাব যদি ইরান মেনে নেয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পাকিস্তানের দাপট বাড়বে। সেক্ষেত্রে বন্ধু ট্রাম্পের উপর ভারত কতটা প্রভাব খাটিয়ে নিজের পাল্লা ভারী রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *