০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব টেক ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান! কাল ভোরে চাঁদের পথে ৪ নভশ্চর, ইতিহাস গড়তে চলেছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’
টেকবিশ্ব

৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান! কাল ভোরে চাঁদের পথে ৪ নভশ্চর, ইতিহাস গড়তে চলেছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’

Share
Share

ফ্লোরিডা: মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাহেন্দ্রক্ষণ! দীর্ঘ ৫৩ বছর পর ফের মানুষকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে নাসার মহাকাশযান। কেনেডি স্পেস সেন্টারে শুরু হয়ে গিয়েছে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের কাউন্টডাউন। সব ঠিক থাকলে ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সংযোগস্থলে (ভোররাত ৩টে ৫৪ মিনিটে) বিশালাকার এসএলএস রকেটে চেপে মহাকাশে উড়াল দেবেন চার নভশ্চর। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হতে চলেছে মানব সভ্যতার সবথেকে বড় চন্দ্রাভিযান।

[TECHTARANGA-POST:7748]

আর্টেমিস-২ মিশনটি অনেক দিক থেকেই অনন্য। এই প্রথম চাঁদের অভিযানে একত্রে সামিল হচ্ছেন একজন মহিলা, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অ-মার্কিন (কানাডিয়ান) নাগরিক। ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর সফরে তাঁরা চাঁদে অবতরণ করবেন না ঠিকই, তবে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদের চারপাশে একটি ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে ফিরে আসবেন। এই সফল পরীক্ষার উপর ভিত্তি করেই আগামীতে ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনে চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা।

৩২ তলা উঁচু স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটটি এখন ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাডে সগর্বে দাঁড়িয়ে। নাসা সূত্রে খবর, রকেটের হার্ডওয়্যার পরীক্ষা এবং জ্বালানি ভরার কাজ শেষ পর্যায়ে। উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড তাপ ও শব্দ থেকে রক্ষা করতে বিশাল জলের ট্যাঙ্কও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কাল আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। মিশনের অন্যতম কারিগর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, “আমাদের দল কঠোর পরিশ্রম করেছে। এখন আমরা চমৎকার অবস্থায় আছি।”

আর্টেমিস-২ মিশনের এই যাত্রা সহজ ছিল না। এর আগে হাইড্রোজেন জ্বালানি লিক এবং হিলিয়াম প্রেশারাইজেশন লাইনে সমস্যার কারণে দু’বার উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে হয়েছিল। তবে, সব ত্রুটি মেরামত করে দেড় সপ্তাহ আগে রকেটটিকে ফের উৎক্ষেপণ মঞ্চে আনা হয়েছে। চার নভশ্চর বর্তমানে বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে থেকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। তাঁদের খাওয়া-দাওয়া থেকে ঘুম – সবকিছুর উপর কড়া নজর রাখছেন নাসার চিকিৎসকরা।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যাতে এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারেন, তার জন্য নাসা তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরাসরি এই উৎক্ষেপণের সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। যদি আবহাওয়া বা কারিগরি কারণে কাল উৎক্ষেপণ না করা যায়, সেক্ষেত্রে ৬ এপ্রিল বা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিকল্প সময় রাখা হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *