০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব আইন-কানুন ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়েই ভাগ্য বিপর্যয়! আন্দামান সাগরে ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির সলিলসমাধি?
আইন-কানুনকূটনীতিবাংলাদেশবিশ্ব

ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়েই ভাগ্য বিপর্যয়! আন্দামান সাগরে ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির সলিলসমাধি?

Share
Share

কক্সবাজার: উন্নত জীবনের হাতছানি নাকি দালালের সাজানো মৃত্যুফাঁদ? মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে আবারও ট্র্যাজেডির শিকার হলেন কয়েকশো ছিন্নমূল মানুষ! আন্দামান সাগরে নৌকা উল্টে নিখোঁজ হয়ে গেলেন প্রায় ২৫০ জন যাত্রী। যাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিক। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)।

[TECHTARANGA-POST:8013]

উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বয়ান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি বাংলাদেশ উপকূল থেকে অত্যন্ত গোপনে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু, মাঝ-সমুদ্রে প্রকৃতির রুদ্ররূপ এবং বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে সেটি নিমেষেই তলিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়া ২৫০ জনের মধ্যে মহিলা ও শিশুর সংখ্যাও অনেক বলে মনে করা হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:7996]

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ন’জনের মধ্য়ে একজন হলেন বাংলাদেশি যুবক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, কর্মসংস্থানের আশায় সর্বস্ব দিয়ে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। রফিকুলের ভাষায়, “আমাদের সাথে অনেক রোহিঙ্গা ভাই এবং দেশের মানুষ ছিল। হঠাৎ ঢেউয়ে নৌকা উল্টে গেলে যে যার মতো বাঁচার চেষ্টা করে। আমি ৩৬ ঘণ্টা সমুদ্রের নোনা জলে ভেসে ছিলাম। চোখের সামনে চেনা মুখগুলোকে হারিয়ে যেতে দেখেছি।”

[TECHTARANGA-POST:7995]

বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারের ঘিঞ্জি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং দেশের কিছু প্রান্তিক মানুষের চরম দারিদ্র্যই তাঁদের এই মরণযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। দালালচক্র ‘মালয়েশিয়ায় সোনার হরিণ’ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের জীর্ণ নৌকায় সমুদ্র পার করে দেয়। ফলে বঙ্গোপসাগর আর আন্দামান সাগর এখন দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য কার্যত এক “গণকবর” হয়ে দাঁড়িয়েছে!

[TECHTARANGA-POST:7982]

এই ঘটনায় বাংলাদেশের কোস্ট গার্ড ন’জনকে উদ্ধার করতে পারলেও বাকিদের ভাগ্যে কী জুটেছে, তা এখনও অজানা। রাষ্ট্রসংঘ এই ঘটনাকে আধুনিক সময়ের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসাবে বর্ণনা করেছে। পাচারকারী চক্রগুলিকে রুখতে এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারি বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির উপর চাপ বাড়ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *