০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ রক্ষকই যখন ভক্ষক: প্রাক্তন প্রেমিকের প্রতিশোধের পর বর্তমান প্রেমিকের পৈশাচিকতা, কাটোয়ায় ধৃত ৭
অপরাধপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

রক্ষকই যখন ভক্ষক: প্রাক্তন প্রেমিকের প্রতিশোধের পর বর্তমান প্রেমিকের পৈশাচিকতা, কাটোয়ায় ধৃত ৭

Share
Share

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো এক নৃশংস ও হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া। এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রেমিকের বিবাদ এবং তার জেরে ওই নাবালিকার ওপর চলা নারকীয় নির্যাতনে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। ঘটনার সূত্রপাত একটি চড়কে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি বিচ্ছেদ হয়েছিল রবিন রাজবংশী নামে এক যুবকের। বর্তমানে সুদীপ্ত দেবনাথ নামে আরেকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল সে। বুধবার সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় বর্তমান প্রেমিক সুদীপ্ত কিশোরীকে চ্যালেঞ্জ জানায় যে, সে যদি তাকে সত্যি ভালোবাসে তবে প্রাক্তন প্রেমিক রবিনকে চড় মারতে হবে। প্রেমিকের কথা রাখতে রবিনকে ডেকে এনে তার গালে চড় মারে কিশোরী। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শুরু হয় নারকীয় অধ্যায়।

[TECHTARANGA-POST:8083]

অভিযোগ, চড় খাওয়ার পর রবিন সেখান থেকে চলে গিয়ে তার বন্ধুদের নিয়ে ফিরে আসে এবং ওই কিশোরীকে নদীর বাঁধের ধারে তুলে নিয়ে গিয়ে তিনজনে মিলে গণধর্ষণ করে। কিন্তু পাশবিকতার এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর বর্তমান প্রেমিক সুদীপ্ত তার বন্ধুদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে অচৈতন্য ও নগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। কিশোরীকে উদ্ধার করার বদলে মদ্যপ সুদীপ্ত ও তার সঙ্গীরা পুনরায় তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দ্বিতীয় দফায় গণধর্ষণ চালায় বলে অভিযোগ। কিশোরীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে এক নাবালক-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:8082]

বুধবার রাতে একটি ইঁটভাটার পরিত্যক্ত ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। জ্ঞান ফেরার পর সে পুলিশের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সবিস্তারে জানায়। বর্তমানে নির্যাতিতা কিশোরী চিকিৎসাধীন এবং আদালতে তার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এক কিশোরীর সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রাক্তন ও বর্তমান— দুই পক্ষেরই এমন বিকৃত মানসিকতা ও পৈশাচিক আচরণ বিচার ব্যবস্থার সামনে কঠিন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *