০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home লাইফস্টাইল অনলাইনে মাংস কেনা কি মরণফাঁদ? প্যাকেটবন্দি মাংসে মেশানো ‘বিষ’ চিনবেন কীভাবে?
লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

অনলাইনে মাংস কেনা কি মরণফাঁদ? প্যাকেটবন্দি মাংসে মেশানো ‘বিষ’ চিনবেন কীভাবে?

Share
Share

কলকাতা : ব্যাস্ত জীবন, হাতে সময় কম। তাই বাজারে গিয়ে দরদাম করে মাছ-মাংস কেনার বদলে এখন অনেকেরই পছন্দ অনলাইন শপিং। অ্যাপ খুললেই দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে প্যাকেটবন্দি ‘ফ্রোজেন’ চিকেন বা মাটন। কিন্তু, আপনার কেনা সেই মাংস আদৌ কি টাটকা? নাকি রাসায়নিকের প্রলেপে বাসি মাংসকেই ‘ফ্রেশ’ হিসাবে চালানো হচ্ছে? অজান্তেই আপনার প্লেটে ‘বিষ’ চলে আসছে না তো? সামান্য সচেতন থাকলেই কিন্তু আপনি এই প্রতারণা রুখতে পারেন।

প্যাকেটবন্দি মাংস বাসি বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো কিনা, তা চেনার কয়েকটি অব্যর্থ উপায় জেনে নিন:

১. রং দেখে সাবধান

টাটকা কাঁচা মাংসের স্বাভাবিক রং হবে হালকা গোলাপি বা লালচে। যদি দেখেন প্যাকেটের ভেতরে থাকা মাংসের রং কালচে, ধূসর বা বাদামি হয়ে গিয়েছে, তবে ধরে নিতে হবে তা অনেক পুরনো। আবার যদি দেখেন মাংস অস্বাভাবিক রকমের টকটকে লাল এবং ধোয়ার পরেও সেই লাল রং যাচ্ছে না, তবে বুঝতে হবে তাতে সোডিয়াম নাইট্রাইট নামক রাসায়নিক মেশানো আছে।

২. তীব্র গন্ধই দেবে জানান

প্যাকেট খোলার পর বা বরফ গলার পর যদি পচা গন্ধ কিংবা ঝাঁঝালো অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পান, তবে সেই মাংস ভুলেও ছোঁবেন না। এটি দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমানের সংরক্ষণের লক্ষণ। টাটকা মাংসে কখনওই এমন অস্বস্তিকর কড়া গন্ধ থাকে না।

৩. আঠালো ভাব বা অস্বাভাবিক স্পর্শ

মাংসের গায়ে হাত দিলে যদি খুব বেশি আঠালো বা পিচ্ছিল মনে হয়, তবে বুঝবেন তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। টাটকা মাংসে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে তা নরম অথচ স্থিতিস্থাপক হবে। অন্যদিকে, বাসি বা রাসায়নিক দেওয়া মাংস অনেক সময় অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যায়।

৪. জলের ফেনা ও ঘোলাটে ভাব

মাংস ধোয়ার সময়ে পাত্রের জলের দিকে নজর দিন। জল যদি খুব বেশি ঘোলাটে হয় কিংবা জলে অস্বাভাবিক ফেনা তৈরি হয়, তবে নিশ্চিত থাকুন সেই মাংস সংরক্ষণে ফরমালিন বা অন্য কোনও সংরক্ষক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের রাসায়নিক মেশানো মাংস সেদ্ধ হতেও অনেক বেশি সময় নেয় এবং রান্নার পর স্বাদহীন লাগে।

কেনার আগে যা যা মাথায় রাখবেন: 

প্যাকেটটি কোথাও ছেঁড়া বা লিক আছে কিনা, তা ভালো করে দেখে নিন। লিক থাকলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি ১০০ শতাংশ।

প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ অবশ্যই যাচাই করুন।

ফ্রোজেন মাংস কেনার ক্ষেত্রে সবসময় নামী এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের উপর ভরসা করাই শ্রেয়।

সুবিধা আর স্বাস্থ্যের মধ্যে লড়াইয়ে সবসময় স্বাস্থ্যকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মাংসের গুণমান নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলে তা বর্জন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *