কলকাতা: “ইলেকশন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না।” – বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরুর মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে বাইক চলাচলের উপর কার্যত তুঘলকি বিধিনিষেধ জারি করায় নির্বাচন কমিশনকে এভাবেই নজিরবিহীন ভাষায় তিরস্কার করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই ঘটনায় সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে মনে করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ‘যুক্তিহীন’ এবং ‘কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা’ বলেও তোপ দেগেছে আদালত।
[TECHTARANGA-POST:8313]
বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কেন ভোটের আগে এই ধরনের জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে? বিচারপতি সরাসরি বলেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে না? দু’দিন আগে থেকে এমার্জেন্সি ঘোষণা করে ভোট করাক। তা না হলে মানতে হবে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ।”
[TECHTARANGA-POST:8312]
বিচারপতির মতে, এভাবে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়া কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলেন, “শুধু বাইক কেন, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোমা-অস্ত্র নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে!”
কমিশনের যুক্তি ছিল, বাইকবাহিনী দিয়ে ভোট চলাকালীন অশান্তি ছড়ানো হয়। তার জবাবে আদালত পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, গত ৫ বছরে বাইকের বিরুদ্ধে কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে? কত ক্ষেত্রে বাইকবাহিনীর গোলমাল পাকানোর নজির আছে, তা কোর্টকে দেখান। বিচারপতি সাফ জানান, পুলিশ প্রশাসন এবং সিসিটিভি থাকতেও কেন ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নাগরিকদের এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, অথচ তার কোনও সদুত্তর কমিশন দিতে পারছে না? ভোটের আগে এভাবে সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই মনে করছে আদালত।
[TECHTARANGA-POST:8310]
এদিনের কড়া পর্যবেক্ষণের পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কেন ভোটের ৩ দিন আগে বাইক বন্ধের এহেন নির্দেশ দেওয়া হল, তা আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার হলফনামা দিয়ে কমিশনকে জানাতে হবে। আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে কিনা।
Leave a comment