কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গ এখন যেন অগ্নিগর্ভ। থার্মোমিটারের ঊর্ধ্বমুখী পারদ আর লু-এর দাপটে যখন নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক তখনই বঙ্গে চলছে ভোটের উৎসব। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার পর এখন নজর ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার দিকে। কিন্তু, এই তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুথের লাইনে দাঁড়ানো মানেই ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জল খেয়ে এই লড়াই জেতা অসম্ভব। শরীর চাঙ্গা রাখতে ভরসা রাখতে হবে দেশি ফলের জাদুকরী তিন শরবতে!
রোদ থেকে ফিরে বা ভোট দিতে যাওয়ার আগে কোন পানীয়গুলি আপনার রক্ষাকবচ হবে? দেখে নিন এক নজরে:
১. বেলের শরবত: পেটের জন্য পরম বন্ধু
বেলের ল্যাক্সেটিভ গুণ পেট ঠান্ডা রাখতে অদ্বিতীয়।
কীভাবে বানাবেন: একটি পাকা বেলের শাঁস বের করে জলে চটকে ছেঁকে নিন। তাতে বিট নুন, পাতিলেবুর রস এবং চিনি বা মিছরির গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই তৈরি। এটি ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি হজমেও সাহায্য করে।
২. তরমুজের শরবত: হাইড্রেশনের সেরা দাওয়াই
যেহেতু তরমুজের ৯২ শতাংশই জল, তাই শরীর ভিতর থেকে সজীব রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার।
কীভাবে বানাবেন: বীজ ছাড়ানো তরমুজের টুকরো ও কয়েকটি পুদিনা পাতা ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো ও বিট নুন মিশিয়ে চুমুক দিন। রোদ থেকে ফেরার পর এই শরবত নিমেষেই আপনাকে চাঙ্গা করে তুলবে।
৩. আমপোড়া শরবত: লু-এর যম
বাঙালির চিরাচরিত এই পানীয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে মহৌষধের মতো কাজ করে।
কীভাবে বানাবেন: কাঁচা আম পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে ক্বাথ বের করে নিন। তাতে ঠান্ডা জল, ভাজা জিরে গুঁড়ো, বিট নুন, চিনি এবং পুদিনা বাটা দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এটি আপনার এনার্জি লেভেল ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
বিশেষ সতর্কতা
ভোট দিতে যাওয়ার সময় এই পানীয়গুলি ফ্লাস্কে সঙ্গে রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, রাস্তার ধারের কাটা ফল বা খোলা শরবত এই গরমে বিপত্তি বাড়াতে পারে। তাই, ঘরে তৈরি পানীয়তেই ভরসা রাখুন এবং সুস্থ থেকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।
Leave a comment